সামনে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় অস্ত্র যে আট বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই মেসিকে ঘিরে বাড়তি আতঙ্কে ভুগতে রাজি নন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল। বরং তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ইংল্যান্ডের লক্ষ্য একটাই— মেসিকে বেশি বাড়তে দেওয়া চলবে না এবং নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।
সেমিফাইনালের আগে সাংবাদিক বৈঠকে টুখেলকে প্রশ্ন করা হয়, মেসিকে আটকানোর জন্য কি আলাদা পরিকল্পনা করা হয়েছে? উত্তরে ইংল্যান্ড কোচ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা এ নিয়ে ভেবেছি। তবে কোনও ফুটবলারকে একা থামানো যায় না। আমরা একটা উপায় খুঁজে নেব যাতে ওর দাপট যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়’।
এর পরই তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘মেসির বিরুদ্ধে শুধু একজন ফুটবলারকে দায়িত্ব দিলেই হবে না। গোটা দলকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ওর চারপাশের খেলোয়াড়দেরও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কারণ, মেসি যদি বল পায়, তা হলে মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের ছবি বদলে দিতে পারে’।
তবে টুখেলের মতে, ইংল্যান্ড শুধুই প্রতিপক্ষকে আটকানোর কথা ভাবছে না। নিজেদের শক্তির উপরও সমান আস্থা রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমাদেরও এমন ফুটবলার রয়েছে, যারা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আমাদের নিজেদের খেলায় আস্থা রাখতে হবে। শুধু মেসিকে নিয়ে ভাবলে চলবে না’।
টুখেলের মন্তব্য, ‘মেসি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। কিন্তু আর্জেন্টিনাও একটি দুর্দান্ত দল। আমাদের পুরো দলের বিরুদ্ধেই খেলতে হবে’। ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ মানেই ইতিহাস, আবেগ এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু সেই অতীতকে গুরুত্ব দিতে নারাজ টুখেল। ইংল্যান্ড কোচের কথায়, ‘আমরা ইতিহাস নিয়ে ভাবছি না। আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছি। এই দল অতীতের বোঝা বহন করছে না। আমরা শুধু পরের ম্যাচ জিততে চাই’।
চাপের প্রসঙ্গে টুখেল বলেন, ‘এটা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। চাপ থাকবেই। কিন্তু আমি আমার ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনা, প্রতিযোগিতার মানসিকতা এবং জয়ের ক্ষুধাই দেখছি’।
বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার পর এখন ইংল্যান্ডের সামনে ৬০ বছর পর আবার ফাইনালে পৌঁছনোর হাতছানি। আর সেই স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও তাদের অধিনায়ক মেসি। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নামতে প্রস্তুত টুখেলের ইংল্যান্ড।




