• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 15 July, 2026

বিশ্বের সেরা দলের কাছে হেরেছে ফ্রান্স: ফাইনালে উঠেই হুঙ্কার স্প্যানিশ কোচের

ফিফার ওয়েবসাইটে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘প্রায় চার বছর আগে আমরা একটি নির্দিষ্ট ধারণা ও পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। সেই পরিকল্পনার প্রতি আমরা সবসময়ই অনুগত থেকেছি, আর সেটাই আজ আমাদের এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে’

বিশ্বের সেরা দলের কাছে হেরেছে ফ্রান্স: ফাইনালে উঠেই হুঙ্কার স্প্যানিশ কোচের

Photo: Representational Image

অসাধারণ জয়ের পর নিজের দলের ফুটবলারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্পেনের হেড কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর দাবি, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং নিখুঁত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তাঁর দল প্রমাণ করেছে, তারাই এখন বিশ্বের সেরা দল।

‘লা রোহা’ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার পর দে লা ফুয়েন্তে জানান, প্রায় চার বছর আগে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই লক্ষ্যেই অবিচল থাকার ফলই আজকের এই সাফল্য।

ফিফার ওয়েবসাইটে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘প্রায় চার বছর আগে আমরা একটি নির্দিষ্ট ধারণা ও পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। সেই পরিকল্পনার প্রতি আমরা সবসময়ই অনুগত থেকেছি, আর সেটাই আজ আমাদের এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে’।

স্পেনের কোচ অবশ্য ফ্রান্সের গুণগত মানের প্রশংসাও করেছেন। তবে তাঁর মতে, সেই কঠিন পরীক্ষার সামনে স্পেন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বই প্রমাণ করেছে। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে খেলেছি। কিন্তু তাদের সামনে ছিল বিশ্বের সেরা দল। আর এটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে’।

দে লা ফুয়েন্তে তাঁর ফুটবলারদের ভূয়ষী প্রশংসা করেন। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের পরিশ্রম, ঐক্যবদ্ধ মানসিকতা এবং আত্মত্যাগের মনোভাবের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘এই ফুটবলাররা সবকিছুরই যোগ্য। দিনের পর দিন তারা তাদের দায়বদ্ধতা, পারস্পরিক সহযোগিতা, উদারতা এবং প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে। ওরা কঠিন কাজকেও সহজ বলে মনে করে’।

ডালাস স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে জয় তুলে নেয় স্পেন। শক্তিশালী রক্ষণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর অসাধারণ দক্ষতায় তারা বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। ম্যাচের প্রথম গোলটি পেনাল্টি থেকে করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো, যা স্পেনের জয় নিশ্চিত করে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন পোরো।

এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল স্পেন। রবিবার নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে খেতাবী লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা। এর আগে স্পেন মাত্র একবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল। ২০১০-এ নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। সেই ম্যাচে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আন্দ্রে ইনিয়েস্তা।

এই ম্যাচেও দুর্দান্ত ছন্দ বজায় রাখেন মিকেল ওয়ারজাবাল। স্পেনের জার্সিতে শেষ ২০ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮। পাশাপাশি পেনাল্টি থেকে করা এই গোলের সুবাদে জাতীয় দলের হয়ে ৩০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এর ফলে দাভিদ ভিয়া (৫৯), রাউল (৪৪), ফার্নান্দো তোরেস (৩৮), আলভারো মোরাতা (৩৭) এবং দাভিদ সিলভার (৩৫) পর স্পেনের ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন ওয়ারজাবাল।

ম্যাচের আগে সামান্য হলেও ফেবারিট হিসেবে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। শুরুতেও কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে কয়েকটি আক্রমণে তারা স্পেনকে চাপে ফেলেছিল। কিন্তু ম্যাচের প্রথম গোলটি করে স্পেনই। বক্সের ভিতরে লামিনে ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্পেন। সেখান থেকে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল।

এর কিছুক্ষণ পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। দানি ওলমোর সঙ্গে দুর্দান্ত বোঝাপড়ার পর নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স। দেজিরে দুয়ে এবং রায়ান শেরকিকে নামানো হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেনি স্পেন। গোলরক্ষক উনাই সিমন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। অন্যদিকে এমবাপেকে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করতে অসাধারণ ট্যাকল করেন ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলাররা। অন্যদিকে ফ্রান্সকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়েই। শনিবার (স্থানীয় সময়) সেই ম্যাচে মাঠে নামবে এমবাপের দল। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে ফ্রান্স অধিনায়কের সামনে। কিন্তু সেমিফাইনালে হারের হতাশার প্রভাব সেই ম্যাচেও তাদের ওপর পড়বে কি না, সেটাই দেখার।