আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। তারপর সেখান থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত কাজে তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল বলেই অভিযোগ। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তাঁর লোম ছোঁয়া যায়নি। বহাল তবিয়তেই ঘুরে বেড়াতেন তিনি। কিন্তু পালাবদলের পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। পুলিশ তাঁকে খুঁজতে থাকে বলে খবর। কারণ আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার সময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার ওই নির্মল ঘোষকে দেখা গেল সটান পৌঁছে যেতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে তপসিয়ার হোটেলে।
এই নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিরও অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে রয়েছে একাধিক বেআইনি কাজেরও অভিযোগ। পুলিশ তাঁকে না পেলেও তিনি কিন্তু অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে যোগ দিলেন। পুলিশ এড়িয়ে দিব্যি হেঁটে গটমট করে ঢুকে গেলেন। এদিন ঋতব্রত গোষ্ঠী সিপিএমের কায়দায় ‘প্লেনারি’ ডেকেছিল। তপসিয়ায় ঋতব্রত শিবিরের কার্যকরী সভাপতি জাভেদ খানের একটি ক্লাবে সেটা হয়। সেখানে নতুন বেশ কয়েকজনকে দেখা যায়। পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ওখানে হাজির হতে দেখা গেল। এই নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে এলাকার এক ব্যক্তির থেকে লটারির কোটি টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তারপরও প্রকাশ্যে তাঁকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে আরজি কর হাসপাতালের ফাইল। আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতার মা এখন বিজেপি বিধায়ক। তিনি নিজেই নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনজন আইপিএস সাসপেন্ড হলেও নির্মল ঘোষকে কিন্তু পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করেনি। নিজের গ্রেপ্তারি বাঁচাতেই কি ঋত-স্মরণে নির্মল? উঠছে প্রশ্ন। যে চিকিৎসক নেতা আরজি কর নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন, তিনিও ওই শিবিরে যোগ দেন। নাম- ডা. শান্তনু সেন। গরুপাচার, কয়লা পাচার, বালি পাচারে যাঁর নাম ছিল, তিহাড় জেলে যে বন্দি ছিলেন সেই অনুব্রত মণ্ডলকেও ওখানে দেখা গেল। এমনকী তাঁকে বীরভূমের জেলা সভাপতি করা হয়েছে।
কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া থেকে বাঁচতে ওই শিবিরে গিয়েছে সকলে। নির্মল ঘোষ এবং তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। এবার সকলের সামনে এলেন। তাহলে কি আপনি ঋতব্রত গোষ্ঠীতে যোগ দিতে এসেছেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্মল ঘোষের নির্লিপ্ত জবাব, ‘যোগদান নয়, দেখা করতে এসেছি।’




