বারুইপুরে গণপিটুনির ঘটনায় নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে আজ দেখা করতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আগেই শুক্রবার রাতে এই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ। ফলে গণপিটুনির ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৮।
গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। সন্দেহের বশে অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ ছিলেন এবং তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
বারুইপুরের ঘটনাকে ঘিরে একাধিক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। গণপিটুনির মামলায় প্রথমে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের শনিবার আদালতে তোলা হবে। এ ছাড়া, ঘটনার দিন পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা, রেল অবরোধ-সহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও বেশ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বারুইপুরের পুলিশ সুপারের দপ্তরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই দিনে তিনি ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং দুই ঘটনারই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দেন। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সূর্যপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করে কলকাতায় ফিরবেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইন্দ্রজিতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময় কয়েক জন তাঁকে ঘর থেকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করে। সেই হামলাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রশাসনের তরফে ইন্দ্রজিতের বাড়ি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। বাড়ির সামনে নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরাও। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অভাব-অভিযোগ এবং বিভিন্ন দাবি তুলে ধরবেন বলে খবর। তাঁদের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতা এবং সরকারের পদক্ষেপে তাঁরা সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে, নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের এনকাউন্টারে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য রাতে তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় সে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পাল্টা গুলি চালানো হয় এবং তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে এনকাউন্টারের ঘটনাটিও সিআইডি আলাদাভাবে তদন্ত করছে। শুক্রবার ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন।




