বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগেই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শুরু করে দিলেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার এর্লিং হালান্ড। ম্যাচের আগেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই লড়াইয়ে ফেভারিট ইংল্যান্ড, আর সেই কারণেই চাপও থাকবে হ্যারি কেনদের ওপরই।
বিশ্বকাপে এবার দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে নরওয়ে। শেষ ষোলোর রাউন্ডে ব্রাজিলকে ২-১-এ হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তারা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক ছিলেন হালান্ড। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তিনি নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবেই তুলে ধরতে চান। হালান্ড বলেন, “ইংল্যান্ডই পরিষ্কার ফেভারিট। ওদের দলটা দারুণ এবং এই ম্যাচে জেতার সম্ভাবনাও ওদেরই বেশি।আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমরা শুধু মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা দিতে চাই।”
নরওয়ের এই স্ট্রাইকারের মতে, বড় টুর্নামেন্টে ফেভারিট দলের ওপর সবসময়ই অতিরিক্ত চাপ থাকে। সেই বিষয়টাকেই কাজে লাগাতে চায় তাঁর দল। হালান্ডের কথায়, “সব চাপ ওদের ওপর। আমরা শুধু আমাদের ফুটবল খেলব এবং সুযোগ পেলে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।”
ইংল্যান্ড যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও শেষ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তারা নিয়মিত নকআউট পর্বে পৌঁছেছে। এবারও শেষ ষোলোয় মেক্সিকোকে ৩-২-এ হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে তারা। তবে সেই ম্যাচে ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাহ লাল কার্ড দেখায় কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁকে পাবে না ইংল্যান্ড।
অন্যদিকে, হালান্ড নিজেও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই সাত গোল করেছেন তিনি এবং নরওয়ের স্বপ্নের অভিযানের প্রধান কারিগর হয়ে উঠেছেন। তাঁর সঙ্গে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের তালমেল ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ইংল্যান্ডও যে যথেষ্ট শক্তিশালী, তার প্রমাণ মিলেছে শেষ ষোলোর ম্যাচে। ১০ জন নিয়ে খেলতে হলেও মেক্সিকোকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছয়। প্রবল চাপের মধ্যে রক্ষণ সামলে অর্জন করা সেই জয়কে অনেকেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয় হিসেবে বিবেচনা করছেন।
নাটকীয় সেই জয়ের অবশ্য মূল্যও দিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। লাল কার্ড দেখে ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাহকে দুই ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছে। ফলে রাইট-ব্যাকের জায়গায় বিকল্পের অভাব নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন কোচ টমাস টুখেল। তবে ইংল্যান্ডের ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেন। বিশ্বমানের এই স্ট্রাইকার ইতিমধ্যেই চলতি বিশ্বকাপে ছ’টি গোল করেছেন এবং মিয়ামি স্টেডিয়ামে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই নামবেন। অন্যদিকে, মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামও এই বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা তুলে ধরে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন।
ইংল্যান্ড সম্পর্কে থর্স্টভেড্ট বলেন, “ওদের দলগত বোঝাপড়া খুবই ভালো। কিন্তু আমাদের দলে এমন কিছু উঁচু মানের ফুটবলার রয়েছে, যারা ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আমার মতে, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল ঠিক এমনই। যখন দুটি ভালো দল মুখোমুখি হয়, তখন ম্যাচ সাধারণত সমানে সমান হয়। আর শেষ পর্যন্ত সেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।” বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় এই কোয়ার্টার ফাইনালে তাই একদিকে যেমন থাকবে ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের সাফল্যের খরা কাটানোর লক্ষ্য, অন্যদিকে থাকবে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বিভোর নরওয়ে। আর ম্যাচের আগেই হালান্ডের মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি চাপের ভারটা পুরোপুরি ইংল্যান্ডের কাঁধেই তুলে দিতে চাইছেন।




