ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান আপাতত থমকে গেল এক অবিশ্বাস্য মুহূর্তের জন্য। অধিনায়ক হ্যারি কেনের এক সহজ সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিয়ে ঘানার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করল ইংল্যান্ড। ফলে শেষ ৩২-এ ওঠার ছাড়পত্র পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে থমাস টুখেলের দলকে।
ভারতীয় সময়ে বুধবার ভোরে বোস্টন স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু ঘানার সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভাঙতে বারবার ব্যর্থ হন কেন, জুড বেলিংহ্যামরা। ম্যাচের শেষ দিকে আসে সেই সোনালি সুযোগ, যা ম্যাচের ভাগ্যই বদলে দিতে পারত।
৮৫ মিনিটের পর নিকো ও’রাইলির হেড ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। বলটি গোললাইন থেকে মাত্র ছয় গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কেনের সামনে পড়ে। এমন সুযোগ থেকে গোল করা তাঁর কাছে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সারা বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ তারকা বলটি বারের অনেক ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড সমর্থকদের গ্যালারি। মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়তে দেখা যায় ইংল্যান্ড অধিনায়ককে।
এই গোলটি হলে ইংল্যান্ড শুধু নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিতই করত না, কেন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও নজির গড়তেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আপাতত অপূর্ণই রয়ে গেল।থমাস টুখেলের দল জানত, এই ম্যাচে জয় পেলেই শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত হয়ে যাবে। কিন্তু ঘানার দৃঢ় প্রতিরোধ এবং অসাধারণ রক্ষণাত্মক সংগঠনের সামনে তারা শেষ পর্যন্ত হতাশই হয়।
ইংল্যান্ডকে প্রথম গোলে শট নিতে অপেক্ষা করতে হয় ৫৭ মিনিট পর্যন্ত। এ দিনও তাদের রক্ষণভাগকে তেমন শক্তিশালী লাগেনি। ইংল্যান্ড যখন ছন্দহীন হয়ে পড়ে, তখন ঘানার দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ইংল্যান্ডকে বেশ বিপদে পড়তে দেখা যায়।
অ্যাচিলিসের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারণে যাকে বেশিক্ষণ মাঠে রাখা যাচ্ছে না, সেই বুকায়ো সাকাকে পরের দিকে মাঠে নামান টুখেল। অচলাবস্থা কাটার আশায় তিনি জুড বেলিংহ্যামের পরিবর্তে মরগান রজার্সকেও নামান।
ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারেক সাকার একটি শট দুর্দান্ত সেভ করেন। এ দিন সারা ম্যাচে ইংল্যান্ডেকে প্রায় একাই আটকে রেখেছিলেন আসারে। অন্যদিকে, বদলি খেলোয়াড় নিকো ও’রাইলির হেড ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে এবং হ্যারি কেনও অভাবনীয় মিস করেন। ফলে টুখেল ও ইংল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এছাড়া মার্ক গেহির একটি হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেয় ঘানার ডিফেন্ডাররা।
ইংল্যান্ড চাপ সৃষ্টি করলেও এ দিন তারা ভাগ্যবানই ছিল বলা যায়। কারণ, ম্যাচের শেষ দিকে ঘানাকে একটি পেনাল্টি না দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বক্সের ভেতরে এজরি কনসা প্রিন্স কোয়াবেনা আদুকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে বল স্পর্শ না করেই তাঁকে ফেলে দেন, কিন্তু রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি।ম্যাচের শেষে হ্যারি কেন নিজের ভুল স্বীকার করলেও হতাশাকে বড় করে দেখতে রাজি নন। তাঁর মতে, “একজন স্ট্রাইকারের জীবনে এমন মুহূর্ত আসতেই পারে। আমি এখনও বিশ্বাস করি যে, অধিকাংশ সময় এমন সুযোগ থেকে আমি গোল করতে সক্ষম”।
ঘানার প্রশংসাও করতে ভোলেননি কেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের প্রতিপক্ষ অত্যন্ত সংগঠিত ফুটবল খেলেছে এবং আমাদের খুব কম জায়গা দিয়েছে। বিশেষ করে মাঝমাঠে থমাস পার্তের উপস্থিতি ঘানার রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করে’।
এই ড্রয়ের ফলে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট দাঁড়াল চার। তারা এখনও গ্রুপ ‘এল’-এর শীর্ষে থাকলেও নকআউট নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচে পানামার বিরুদ্ধে ভালো ফল করতেই হবে। অন্যদিকে মূল্যবান এক পয়েন্ট পেয়ে শেষ ষোলোয় ওঠার আশা জিইয়ে রাখল ঘানা।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে হ্যারি কেনের মতো পরীক্ষিত গোলদাতার এমন মিস বিরল। তবে ফুটবলের সৌন্দর্যই হয়তো এখানে— কখনও কখনও একটি মাত্র মুহূর্ত পুরো ম্যাচের ছবি বদলে দেয়। তবে বোস্টনের এই রাতে সেই গল্পের নায়ক হয়ে ওঠা হল না ইংল্যান্ড অধিনায়কের।




