জুলিয়া বাটারফ্লাই হিল, মাত্র ২৩ বছর বয়সী একজন মার্কিন পরিবেশকর্মী প্যাসিফিক লাম্বার রিসোর্স কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি সাহসী পদক্ষেপ নেন, শুধুমাত্র বৃক্ষছেদনের নির্মমতা রুখতে ৭৩৮ দিন (ডিসেম্বর ১৯৯৭ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৯ পর্যন্ত) ক্যালিফোর্নিয়ার লুনা নামক একটি হাজার বছরের পুরনো ক্যালিফোর্নিয়া রেডউড গাছে বসবাস করেছিলেন এবং এই দীর্ঘ ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের শেষ হাসিটা হিলেরই ছিল। কর্ণাটকের কুদুর থেকে হুলিকল পর্যন্ত রাজ্য মহাসড়ক-৯৪কে অহর্নিশ ছায়াবৃত করে রাখা প্রায় ৩৮৫টি বটগাছ সম্প্রতি মাতৃহারা হয়েছে, মারা গেছেন ১১৪ বছর বয়সী পদ্মশ্রী প্রাপক বিশিষ্ট পরিবেশরক্ষক সালুমারাদা থিম্মাক্কা। আসামের মাজুলি জেলার মলাই জঙ্গলের ‘যুগলপ্রসাদ’ (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আরণ্যক’ উপন্যাসের চরিত্র বিশেষ) হলেন পদ্মশ্রী প্রাপক ভারতের অরণ্যমানব যাদব পায়েঙ। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে প্রকৃতির সহজলভ্যতার বিরুদ্ধে সভ্যতার আগ্রাসনের যে সম্যক সমর শুরু হয়েছে তাতে প্রতিদিন প্রকৃতির প্রকৃত যোদ্ধাদের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে চলেছে। বিশ্বউষ্ণায়ন নামের মারণ জ্বরের উত্তাপে কংক্রিটের চাদর মুড়িয়ে আমরা প্রতিদিন পুড়ছি; এই দুর্দিনে আমাদের একমাত্র প্রতিষেধক হবে অস্তিত্বের শিকড়ের খোঁজ, পূর্বপুরুষদের তপস্যালব্ধ সনাতন জ্ঞান, ধরিত্রীকার মর্মপোলব্ধি।
কমিক চরিত্র অরণ্যদেব যেমন বন-জঙ্গল, বন্যপ্রাণীদের দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রক্ষা করত তেমনি ভারতের প্রাচীন উপজাতি গোষ্ঠীগুলির মধ্যে আজও বন দেব-দেবীর আরাধনার প্রচলন রয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাসে তাঁরাই প্রতিকূল বন্যজীবনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। জীববৈচিত্র্যের বিপুল সম্ভারে সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলের অধিবাসীরা স্থানীয় লোকমান বনবিবিকে তাদের অরণ্যের দৈনন্দিন জীবন যাপনের একমাত্র ভরসা হিসেবে আজও মান্যতা দিয়ে চলেছে। প্রাচীন ভারতীয় ধর্মাচারের একটি তাৎপর্যমূলক অংশ ছিল বৃক্ষ-উপাসনা। জেমস ক্যামেরন দ্বারা রচিত এবং পরিচালিত অভতার, ২০০৯ সালের একটি কল্পবিজ্ঞান নির্ভর চলচ্চিত্র, তাতেও ‘Tree of souls’-এর চিত্রায়ন আছে। শুধুমাত্র ভারতীয় হিন্দু বা উপজাতি সংস্কৃতির সঙ্গেই বৃক্ষ-উপাসনা জড়িত নয় তথাকথিত বৌদ্ধ সমাজে ‘বোধিবৃক্ষ’ -এর গুরুত্ব আমাদের অজানা নয়, ইসলামে ‘সাদাকাহ-ই-জারিয়া (চিরস্থায়ী দান)’ হিসেবেও গাছের সাত্ত্বিক গুণও সমাদৃত। ধর্মস্থানে বিশেষ বৃক্ষের উপাসনা বা উপস্থিতি আমাদের সেই বৃক্ষের ভেষজ, কল্যাণকারী বিশেষ ব্যবহারিক দিকগুলোর সাথেই তাদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও সচেতন করে। ঋষিপ্রণীত গ্রন্থে, হিন্দু পুরাণে লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বৃক্ষ-উপাসনা বারবার চর্চিত হয়েছে। সাধারণ লোকাচারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিজ্ঞানকেই জনসমাজে প্রচারিত ও প্রসারিত করতে পরম্পরার এই অনুশীলন আমাদের রোজনামচায় আনা উচিত।
উপাসনাকারীরা সাকার দৈবপ্রতীককে কোনোভাবেই ক্ষয়, হনন, ছেদন করেন না, উৎকৃষ্টতম নৈবেদ্য, সুগন্ধি ফুল-চন্দনে-সিঁদুরে সুসজ্জিত করে প্রতীকটির মাধ্যমে ইষ্ট সাথে এক নৈসর্গিক বন্ধনে লিপ্ত হন। ঠিক সেভাবেই ভারতবর্ষে বট, অশথ্ব, বেল, পলাশ, ডালিম , নিম, তুলসী, পদ্ম ইত্যাদি গাছ বিশেষ দৈবপ্রতীক রূপে পূজিত হয়। এছাড়াও যে কোনও পূজার আয়োজনে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বহু গাছ পালা লাগে, শিব পূজায় ব্যবহৃত হয় বেল, ধুতরা, আকন্দ, রুদ্রাক্ষ, চন্দন ইত্যাদি। আবার হরি ভক্তদের দারুণ পছন্দের কৃষ্ণবট, তুলসী, শ্বেতচন্দন ইত্যাদি, গণেশ আরাধনায় সুপুরি, দূর্বা, অর্জুন আরও কত কিছু। জামাই ষষ্ঠী বা অরণ্য ষষ্ঠী তো পরিপার্শ্বের সবুজ সংরক্ষণের ধর্মীয় প্রতিষেধক। নবপত্রিকা বাংলা, আসাম ও ওড়িশার দুর্গাপূজার একটি বিশিষ্ট অঙ্গ। রম্ভা কচ্চী হরিদ্রাচ জয়ন্তী বিল্ব দাড়িমৌ/অশোক মানকশ্চৈব ধান্যঞ্চ নবপত্রিকা।
অর্থাৎ: কদলী বা রম্ভা (কলা), কচু, হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী, বিল্ব (বেল), দাড়িম্ব (ডালিম), অশোক, মানকচু ও ধান। এসব গাছের সংরক্ষণের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের চাহিদাও পরিলক্ষিত হয়। গাছ গাছরা আর পুজোর যোগসাজক মানব জাতির ইতিহাসের সঙ্গে অচ্ছেদ্য হয়ে আছে। আজও এই বিষয়টি আকর্ষণীয় হয়ে আছে সনাতনী প্রবণতা, আধুনিক ধর্মবিশ্বাসের আর জনজাতীর নিজস্বতায়। উদাহরণস্বরূপ, যক্ষ এবং যক্ষিণীদের আদিবাসী প্রকৃতি দেবতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই পৌরাণিক দেবতারা পবিত্র গাছে বসবাস করেন বলে মনে করা হয়। বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের পৌরাণিক কাহিনী, গল্প এবং চিত্রকল্পে এই দেবতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। দক্ষিণ ভারতে গ্রামীণ উপাসনাস্থল হলো গ্রামদেবতার মন্দির। সেখানে প্রকৃতি অকৃপণ। পাহাড়, পাথর, ঝর্ণা, বা পুকুর, বিশাল বিশাল গাছে অথবা গুল্ম। ঝোপঝাড়, স্বাভাবিক উদ্ভিদই দেবতার প্রতিনিধিত্ব করে সেখানে।
বুদ্ধগয়ার বোধি বৃক্ষ এখনও আধ্যাত্মিক আবেশ জোগায়। বৃন্দাবনের নিধিবন, দক্ষিনেশ্বরের পঞ্চবটি আজও আকর্ষণ করে। এই বনাঞ্চলগুলি উদ্ভিদ, প্রাণী এবং অণুজীবের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এগুলি প্রায়শই আশেপাশের এলাকার জন্য সীড ব্যাঙ্ক হিসেবেও কাজ করে। বৃক্ষ পূজা কেবল প্রাচীন নয়, নিরন্তর অভিযোজনে ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে। পরিবেশ-ধর্মতত্ত্ব এবং আধ্যাত্মিক বাস্তুতন্ত্র আন্দোলন বৃক্ষ পূজাকে সবুজ আধ্যাত্মিকতা হিসাবে পুনর্ব্যাখ্যা করে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং সরকারগুলি এখন সাংস্কৃতিক বিশ্বাসকে পুনর্বিবেচনা করে সচেতনতামূলক অভিযান ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। আফ্রিকায় ‘Plant a tree for your ancestors (আপনার পূর্বপুরুষদের জন্য একটি গাছ লাগান)’ অভিযান। এইভাবে আধুনিক সংরক্ষণ বিজ্ঞানের সঙ্গে ঐতিহ্যের মিশ্রণ একটি সামগ্রিক, টেকসই পরিবেশগত কর্মকাণ্ড তৈরি করে।
‘নিশিদিশি দাঁড়িয়ে আছ
মাথার লয়ে জট,
ছোটো ছেলেটি মনে কি পড়ে
ওগো প্রাচীন বট!’
থিম্মাম্মা মারিমানু, ৫৫০ বছর বয়সী বিশ্বের বৃহত্তম বটগাছ এখনও নির্ভিক ভাবে দাঁড়িয়ে আছে অন্ধ্রপ্রদেশে। থিম্মাম্মা মারিমানু নামকরণ করা হয়েছে থিম্মাম্মার নামে, কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীতে তাঁর স্বামীর চিতায় সতীদাহ করেছিলেন এবং চিতার সংলগ্নে থাকা খুঁটি থেকে গাছটি জন্ম নেয়। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার তীর্থযাত্রী এখানে আসেন। ভারতীয়দের বিশ্বাসে আজও পরিবেশগত ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যের সাক্ষ্যবাহী। বিশ্বাস করা হয় যে গাছটি নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তানসুখের আশীর্বাদ করেন এবং যারা এর পাতা কেটে ফেলে তাদের অভিশাপ দেন। বিশ্বের বৃহত্তম গাছের ছাউনি থাকার জন্য গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস দ্বারা স্বীকৃত, যা প্রায় ১৯,১০৭ বর্গমিটার জুড়ে বিস্তৃত— চারটি ফুটবল মাঠের আকারের সমান । এর অনন্য বৃদ্ধির ধরন , বায়বীয় শিকড় নতুন কাণ্ড তৈরি করে বছরের পর বছর ধরে এটিকে পার্শ্বীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছে। জীবনের অপরিহার্য রসদ প্রাণবায়ু, অক্সিজেন। গাছটির বিস্তার থেকে ধারণা করা যায় কি বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন গ্যাস নিঃসরণে এটি সক্ষম। একটি পূর্ণবয়স্ক অশথ্ব গাছ প্রতি বছর প্রায় ৩০০ কেজি (৬৬১ পাউন্ড) অক্সিজেন উৎপন্ন করে। ৩০টি জাম্বো সিলিন্ডার অক্সিজেনের সমতুল্য, যার বার্ষিক খরচ ২৪,০০০/-। একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে, এর পরিমাণ ৩০,০০০ কেজি অক্সিজেন, যা শুধুমাত্র অক্সিজেন সিলিন্ডারে ২.৪ মিলিয়নের সমতুল্য। অশথ্ব গাছের অনন্য ক্র্যাসুলাসি অ্যাসিড মেটাবলিজম (CAM) এটিকে রাতে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করতে দেয়, জলের ক্ষয় কমায় আর তারপর দিনের বেলায় সালোকসংশ্লেষণের জন্য অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করে।
আয়ুর্বেদের মতো ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিতে অশথ্ব, নিম, তুলসী, বট এবং বেলের মতো অনেক পূজিত গাছ তাদের নিরাময়মূলক প্রভাবশালী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। মানবদেহের শ্বাসযন্ত্র এবং হৃদরোগের চিকিৎসায়, অণুজীব আক্রান্ত রোগ নিরাময়ে,প্রাকৃতিক শোধনকারী হিসেবে এসব গাছের পাতা, মূল, বাকল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তুলসী, যাকে প্রায়শই ‘ঔষধির রাণী’ বলা হয়, বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল যেমন ইউজেনল, ইউরসোলিক অ্যাসিড, রোসমারিনিক অ্যাসিড এবং ফ্ল্যাভোনয়েড যেমন এপিজেনিন এবং লুটোলিন ইত্যাদির উপস্থিতি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কাশি ও সর্দি নিরাময় করে। বেঙ্গালেনোসাইডস নামক ফাইটোকেমিক্যাল থাকায় বট গাছের ডায়াবেটিস প্রতিরোধী এবং ক্ষত নিরাময়কারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং প্রাকৃতিক রেচক যৌগ এবং প্রদাহ-বিরোধী ট্যানিন থাকায় বেল গাছ হজমের সমস্যা নিরাময়ে কার্যকর। অশোকের মতো গাছগুলি নারী স্বাস্থ্যের জন্য মূল্যবান, এতে ক্যাটেচিন নামক ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা প্রাণঘাতী কর্কটরোগের মতো অসুখে কার্যকরী এবং চন্দন কাঠ তার শীতলতা এবং অ্যান্টিসেপটিক গুণাবলীর জন্য ব্যবহৃত হয়। সংরক্ষণের ধারণার অনেক আগে থেকেই, এই পবিত্র বনগুলি প্রায়শই জীববৈচিত্র্যের হটস্পটে পরিণত হয়েছিল, যা বিরল এবং বিপন্ন প্রজাতির সুরক্ষা প্রদান করে।
প্রাচীন রীতিনীতির দ্বারা গাছের প্রতি শ্রদ্ধা স্থিতিশীল জীবনযাত্রা এবং মানুষ ও প্রাকৃতিক বিশ্বের মধ্যে একটি দৃঢ় বন্ধনকে উৎসাহিত করে। এই সাংস্কৃতিক বিশ্বাসগুলি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ মূল্যের স্মারক হিসেবে কাজ করে এবং সমসাময়িক সংরক্ষণ উদ্যোগকে অনুপ্রেরিত করে যা পরিবেশগত ভারসাম্য এবং পরিবেশের সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্প্রীতি, উভয়কেই অগ্রাধিকার দেয়। তাই প্রাচীন বৃক্ষ পূজাকে পরিবেশগত স্থায়িত্বের একটি প্রাথমিক উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সম্প্রদায়গুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষছেদন কমিয়ে দেয় এবং নির্দিষ্ট গাছ এবং অরণ্যকে শ্রদ্ধা করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। যেহেতু এই পবিত্র বনগুলিতে ধ্বংস করা, শিকার এবং দূষণ নিষিদ্ধ ছিল, তাই বন্যপ্রাণী এবং গাছপালা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ভারসাম্যের ধারণা— প্রকৃতি থেকে যা প্রয়োজন তা গ্রহণ করা এবং আচার-অনুষ্ঠান এবং যত্নের মাধ্যমে তা আবার প্রকৃতিতেই ফিরিয়ে দেওয়া, গাছের প্রতি সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক শ্রদ্ধা দ্বারাও লালিত হয়েছিল।
সমীক্ষা বলে, বড়দিন উপলক্ষ্যে ২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৪৫ লক্ষেরও বেশি ক্রিসমাস ট্রি কেটে ফেলেছে, ভারতে রক্তচন্দনের ক্রমবর্ধমান অবৈধ ছেদন ও চোরাকারবারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত সুপ্রাচীন বৃক্ষগুলির রক্ষনাবেক্ষনের অভাব আমাদের অদূর বিপদের সম্মুখীন করতে চলেছে। প্রাচীন ধর্মীয় লোকাচার সংরক্ষণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও বর্তমানে এইসব অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদের ধর্মীয় আবেগের বলি হতে হচ্ছে হামেশাই। কখনও আবার পুঁজিবাদী সমাজের অসীম লোভের শিকার হচ্ছে। কেবলমাত্র উৎসবের নান্দনিক উপাদান, প্রার্থনার নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল বা চাহিদা পূরণের সহজলভ্য দানশিবির হিসেবে এই গাছগুলির মূল্য নির্ধারণ না করে বিজ্ঞানের শীতল ছায়ায় নিজেদের চৈতন্যকে সমৃদ্ধ করতে পারলেই আমরা এই সংকটকালীন অবস্থায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবো এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের দূরদর্শিতাকে সম্মান জানাতে পারবো।




