• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 8 July, 2026

সাফাইকর্মীদের হাতে থাকবে এবার স্বচ্ছ-কবচ, ৭ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা মুখ্যমন্ত্রীর

স্বচ্ছ কবচ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো, বিশেষভাবে তৈরি সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণের মাধ্যমে সাফাইকর্মীদের নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো

সাফাইকর্মীদের হাতে থাকবে এবার স্বচ্ছ-কবচ, ৭ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা মুখ্যমন্ত্রীর

Suvendu Adhikari Photo-ANI

রাজ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখেন সাফাইকর্মীরা। এবার তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে বিশেষ কর্মসূচির সূচনা করলেন তিনি। বুধবার একটি পাইলট প্রজেক্ট অথবা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে ‘স্বচ্ছ-কবচ’ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। যার অধীনে রাজ্যের ৫০ হাজার সাফাইকর্মীর হাতে বিশেষ সুরক্ষা কিট তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত প্রতিনিধিরা যেমন ছিলেন তেমন রাজ্যের নানা পুরসভা এবং নগরোন্নয়ন সংস্থার আধিকারিকরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। আর এখানেই রাজ্যজুড়ে ৭ কোটি গাছের চারা শুধু রোপণই নয়, বরং সেগুলির যত্ন নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ‘স্বচ্ছ কবচ’ কিট বিতরণের উদ্দেশ্য এবং সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকে একটি সামাজিক কর্তব্য ও নাগরিক চেতনার অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই ভাবনারই প্রতিফলন হিসেবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতা এবং বিধাননগর পুরসভার যৌথ উদ্যোগে ‘স্বচ্ছতাতে স্বাগত’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। যার ভূয়সী প্রশংসা খোদ প্রধানমন্ত্রী রেড রোডের ঐতিহাসিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানেও করেছেন।’

অন্যদিকে আলিপুরের উত্তীর্ণ অডিটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই উদ্যোগটির সূচনা করেন এবং সাফাইকর্মীদের রাজ্যের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মেরুদণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মধ্যে সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত সামগ্রী—যেমন উজ্জ্বল রঙের জ্যাকেট (হাই-ভিজিবিলিটি জ্যাকেট), গ্লাভস এবং লম্বা রাবারের বুট বিতরণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শহরের পরিবেশের অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, নাগরিক অসচেতনতা, নির্বিচারে বৃক্ষছেদন এবং কংক্রিটের জঙ্গলের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। শহর এলাকায় ১৫ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি চলাচলের উপর নজরদারির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তাছাড়া স্বচ্ছ কবচ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো, বিশেষভাবে তৈরি সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণের মাধ্যমে সাফাইকর্মীদের নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো। এই বিষয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বার্তা, ‘সাফাইকর্মীরা পরিচ্ছন্নতা রক্ষার লড়াইয়ে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। এতদিন তাঁদের কাছে উপযুক্ত সুরক্ষাসামগ্রী ছিল না। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা বিশেষ কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য সামলাতে হয় কিংবা ভারী যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম ব্যবহার করে এলাকা পরিষ্কার করতে হয়।’ আর গত তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বলেন, ‘গত ১৫ বছরে কলকাতায় ক্রমাগত গাছ কাটা হয়েছে এবং শহরজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে কংক্রিটের কাঠামো। তার ফলে পরিবেশের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। আমাদের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এবং ঠিক এই কারণেই এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।

এবার রাজ্য সরকার চলতি বছরে ৭ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। গোটা রাজ্যে সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাষায় জানালেন, গাছ কাটার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে শিশু, কিশোর এবং প্রবীণ নাগরিকদের উপর। তার জেরে চর্মরোগ এবং শ্বাসকষ্টজনিত নানাবিধ ব্যাধি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে শীতকালে বায়ু দূষণের সূচক এতটাই বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছয়। চিকিৎসকেরা ‘মর্নিং ওয়াক’ করতে পর্যন্ত নিষেধ করেন। শিলিগুড়ি থেকে আসানসোল কিংবা দার্জিলিং থেকে দিঘা— রাজ্যের প্রত্যেকটি শহরের উন্নয়ন হতে হবে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ। ফ্লাইওভার, রোড ওভারব্রিজ বা দৃষ্টিনন্দন অডিটোরিয়াম তৈরির যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনই সমান গুরুত্ব দিতে হবে স্বচ্ছতা, পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ এবং সবুজায়ন সৃষ্টির।