‘তারাতলা বিপর্যয়’ প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল ১৬ জন শ্রমিকের। নির্মীয়মাণ গোডাউনের নেপথ্যে অনিয়মের কারসাজির মাস্টারমাইন্ড ছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন শ্রীঘরে। আর তদন্ত যত এগিয়েছে ততই সামনে এসেছে নির্মীণকাজ অনুমোদন প্রক্রিয়ার ছত্রে ছত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ। কলকাতা পুরসভার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নয়া মোড়। গত ২৪ জুনের বিপর্যয়ে কেড়ে নিয়েছিল ১৬ জন নিরীহ শ্রমিকের প্রাণ। আর তদন্তে এবার কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার তদন্তে উঠে এসেছে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভাব খাটিয়ে, সমস্ত নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই বিপজ্জনক বহুতলটির নকশা অনুমোদন করিয়েছিল।
এদিকে কলকাতা পুরসভার তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গোডাউনের বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের সময় মাটি পরীক্ষার রিপোর্টই জমা পড়েনি খোদ পুরসভায়। এমনকী নির্মাণকাজ চলাকালীন স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের ব্লু প্রিন্ট নথিভুক্ত ছিল না। যা নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। কোনওরকম কারিগরি যাচাই ছাড়াই তৈরি হচ্ছিল ওই গোডাউন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা ওই দুর্ঘটনাস্থল এবং কাঠামো প্রাথমিক পরীক্ষা করেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বহুতলটির মূল নকশাতেই একাধিক মারাত্মক গলদ এবং ত্রুটি ছিল। এই অবস্থায় প্ল্যান পাশ করিয়ে নিতে প্রভাব খাটিয়েছিল কালীচরণ। আর তা করে মোটা টাকা কামিয়েছিল বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার ভিতরেই এই বিষয়ে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অনুমোদন পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই নির্মাণের ছাড়পত্র দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুরসভা বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর, গত আট বছর ধরে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাজে একনায়কতন্ত্র চালিয়েছিলেন কালীচরণ। তিনি কোনও কাজে অনুমোদন দিলে তার উপর কলকাতা পুরসভার কোনও অফিসারের কথা বলার সাহস ছিল না। কলকাতা পুরসভার অন্য কোনও ইঞ্জিনিয়ারের ক্ষমতা ছিল না যে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রযুক্তিগত কোনও যাচাই ছাড়াই টাকার গরমে এবং প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে বহু নির্মাণের ছাড়পত্র পাইয়ে দিতেন কালীচরণ।
তাছাড়া কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, কোনও বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত যাচাই ছাড়াই নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হতো কালীচরণের নির্দেশে। শুধু তারাতলাই নয়, তখন অনুমোদন দেওয়া একাধিক বড় প্রকল্পগুলিও নতুন করে প্রশাসনিক এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আনা উচিত। কারণ, আর কতগুলি এমন মরণফাঁদ শহরের বুকে লুকিয়ে আছে সেটা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আর এই কালীচরণের দৌলতে কলকাতা পুরসভায় শুরু হয় দুর্নীতি। যা ফিরহাদ হাকিম জানতেন বলেই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে সূত্রের খবর।




