• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 8 July, 2026

ইরানের ফের হামলা আমেরিকার, হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী আমেরিকার

আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তারা ইরানকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, এই হামলা অযৌক্তিক, অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

ইরানের ফের হামলা আমেরিকার, হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী আমেরিকার

Image: IANS

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পাল্টা দিল আমেরিকা। বুধবার ভোরে (স্থানীয় সময়) ইরানের একাধিক এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এসেছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তারা ইরানকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, এই হামলা অযৌক্তিক, অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, উপকূলীয় নজরদারি পরিকাঠামো-সহ একাধিক সামরিক জায়গায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, দক্ষিণঞ্চলের সিরিক শহরে পরপর সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং একটি এলাকায় অন্তত ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।  এছাড়া কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসেও বিস্ফোরণ হয়েছে।

 

ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মধ্যেই হামলা চলে। তাঁর কফিন ইরানের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং ইরাকেও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে ইরানে হামলার খবর পাওয়ার পর তিনি তেহরানে ফিরে যান।

 

মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীর কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার মুখে পড়ে। আমেরিকার অভিযোগ, হামলার পিছনে রয়েছে ইরান সেনার এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পস। ভারতমুখী একটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার তথ্য অনুসারে, ওমানের লিমাহ থেকে প্রায় আট নটিক্যাল মাউল দূরে তরলীকৃত প্রাকৃতি গ্যাসবাহী ‘আল রেকায়ত’ জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জাহাজটি কাতার থেকে ভারতের দিকে যাচ্ছিল।

 

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতা হওয়ার পর কয়েক দিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল চলছিল। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। প্রথমে ওমান উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলার অভিযোগ তোলে আমেরিকা। এরপর মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়।

জবাবে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে ইরান। কয়েক দিনের সংঘাতের পর উভয় দেশ হামলা বন্ধের কথা জানালেও পরে ইরান ঘোষণা করে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ ওই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না। এই উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবারের জাহাজ হামলার ঘটনা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।