• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 7 July, 2026

ফের ওয়েনাড়ে ধস, শ্রমিকদের চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা

প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্ততপক্ষে ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

ফের ওয়েনাড়ে ধস, শ্রমিকদের চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা

Image: ANI

২০২৪-এর ভয়াবহ ভূমিধসের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তার দু’বছরের মধ্যেই ফের প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কেরলের ওয়েনাড়। মঙ্গলবার সকালে ওই জেলার কাল্লাডি এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি সুড়ঙ্গ প্রকল্পের কাছে ভূমিধস নামায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ধসের সময় সেখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে শ্রমিকরা আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।


ঘটনাটি ঘটেছে মালাপ্পুরম ও ওয়েনাড় জেলাকে সংযুক্ত করার জন্য তৈরি হওয়া আনাক্কমপোইল-মেপ্পাডি টানেল প্রকল্পের কাছে, মীনাক্ষী সেতুর সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। প্রবল বৃষ্টিতে কাদাজল বইতে শুরু করে প্রচন্ড বেগে। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফের দল।

 

প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্ততপক্ষে ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির মধ্যেও উদ্ধারকারীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সুড়ঙ্গের একাংশ ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

 

ঘটনার খবর পেয়েই জরুরি বৈঠক করেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। তিনি উদ্ধারকাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। কৃষিমন্ত্রী টি সিদ্দিকী-সহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে তদারকি করেন। তবে মন্ত্রী টি সিদ্দিকীর দাবি, স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই ওই এলাকায় ধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল। আগে থেকেই সতর্ক হলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রসঙ্গত, ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

 

এই ধসের কারণ প্রবল বর্ষণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকায় প্রায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, একটানা ভারী বৃষ্টির জেরেই পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে ধস নামে। ধসে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এলাকার আশেপাশে থাকা কয়েকটি বাড়ি ও হোমস্টের বাসিন্দাদেরও নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

ফের কেরলের ওয়েনাড়ে এই বিপর্যয় ফিরিয়ে আনছে ২০২৪-এর ৩০ জুলাইয়ের ভয়াবহ স্মৃতি। সেদিন গভীর রাতে প্রবল বর্ষণের জেরে ওয়েনাড়ের চুরালমালা, পুঞ্চিরিমত্তোম, মুণ্ডাক্কাই-সহ একাধিক পাহাড়ি গ্রামে ভয়াবহ ভূমিধস নামে। সরকারি হসাবে প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়। যদিও বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়। শতাধিক মানুষ দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিলেন। সেই বিপর্যয়কে কেরলের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে মনে করা হয়।

 

এদিকে আগামী কয়েকদিনও কেরলের একাধিক জেলায় ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ওয়েনাড়-সহ পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে নিয়ে প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে। প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের।