• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 7 July, 2026

৩৭০ ধারা বাতিল করে মোদীজি শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন: অমিত শাহ

বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, বহু বছর পর বাংলায় শ্যামাপ্রসাদের আদর্শে বিশ্বাসী দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

৩৭০ ধারা বাতিল করে মোদীজি শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন: অমিত শাহ

Photo: Representational Image

‘আজ আমার মতো অনেকেরই আবেগপ্রবণ হওয়ার দিন। ওনার মৃত্যুর এত বছর পর আজ বাংলায় ওনার মূর্তি স্থাপনের শিলান্যাস হল। শ্যামাপ্রসাদের পার্টির সরকার এসেছে বাংলায়। এই ভূমিপুজোকে আমি অন্যভাবে দেখছি, এটা সোনার বাংলা গড়ার ভূমিপুজো।’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার ইকোপার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এভাবেই আবেগঘন বক্তব্য রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্যে যেমন উঠে এল শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ, তেমনই উঠে এল বাংলার নতুন বিজেপি সরকারের কাজের প্রশংসা এবং ভবিষ্যতের একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপরেখা।


ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উচ্চতার প্রস্তাবিত মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখন লাল সরকার।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘তিনি একটি বীজ পুতেছিলেন। আজ ওই বীজ বটবৃক্ষ হয়ে ভারতকে ফল দিচ্ছে।” তাঁর কথায়, স্বাধীন ভারতের নীতি যেন ভারতের মাটি থেকেই গড়ে ওঠে, সেই স্বপ্নই দেখেছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেই ভাবনাই আজ দেশের নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, বহু বছর পর বাংলায় শ্যামাপ্রসাদের আদর্শে বিশ্বাসী দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই পরিবর্তনকে তিনি শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বাংলার পুনর্নির্মাণের সূচনা বলেও ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, ‘বাংলার পুনর্নির্মাণ এত বছর পর এই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে থেকে শুরু হল। শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন। এত বছর পর বাংলার বাঘের ছেলে শ্যামাপ্রসাদকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। ঝিলের পাড়ে এত বড় মূর্তি হচ্ছে। আমি বলেছি ভারতের সুরক্ষার জন্য, রিসার্চ করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ইনস্টিটিউশনও ওখানে করার কথা।’
তিনি জানান, ড. শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে শুধু একটি মূর্তি নির্মাণ নয়, তাঁর আদর্শ, রাষ্ট্রচিন্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণার জন্যও একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের বিজেপি সরকারের কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে ইতিমধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে শুভেন্দু সরকার। গুন্ডাদমন বিল বিধানসভায় পাশ হয়েছে। পাশাপাশি খুব শীঘ্রই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) সংক্রান্ত বিলও বিধানসভায় আনা হবে। এত অল্প সময়ে সরকারের একের পর এক পদক্ষেপের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানান তিনি।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘এক দেশে দুই বিধান চলবে না। কাশ্মীরে ওনার মৃত্যু হয়। কিন্তু কংগ্রেস কোনও তদন্ত করেনি সেই সন্দেহজনক মৃত্যুর। আজ মোদিজি ওনার স্বপ্ন সফল করেছে। ৩৭০ ধারা কাশ্মীর থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’ তাঁর দাবি, যে আদর্শের জন্য ড. শ্যামাপ্রসাদ আত্মবলিদান দিয়েছিলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করেছে।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়েও বড় বার্তা দেন তিনি। শাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে থাকা হিন্দুদের চিন্তা সেদিন করেনি কংগ্রেস। তাই তিনি সেদিন মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। আজ আমাদের সরকার সব হিন্দুদের সিএএ চালু করে নাগরিকত্ব দেওয়ার সংকল্প নিয়েছে। ভারতের মাটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে বার করব।” তিনি স্পষ্ট জানান, নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়ায় যে জটিলতার কথা শোনা যাচ্ছে, তা দ্রুত কাটিয়ে সিএএ-র আওতায় যোগ্য ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমার মত অনেকের আবেগপ্রবণ হওয়ার দিন। দেশের প্রথম মন্ত্রিসভা থেকে শ্যামাপ্রসাদ পদত্যাগ করেছিলেন। ওনার মৃত্যুর এত বছর পর আজ বাংলায় ওনার মূর্তি স্থাপনের শিলান্যাস হল। শ্যামাপ্রসাদের পার্টির সরকার এসেছে বাংলায়। এই ভূমি পুজোকে আমি অন্য ভাবে দেখছি এটা সোনার বাংলা গড়ার ভূমিপুজো।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে অমিত শাহ বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী আর বন্দেমাতরম-এর ১৫০ বছর একই বছর আসা, এটা বিধির লিখন। ভারতীয় রাষ্ট্রবাদের বীজ বপন করার কাজ করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতরম গানের রচনার মধ্যে দিয়ে। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করে বলেছিলাম আজ ছুটি দেওয়ার জন্য।’