বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে একজনের নাম দিবাকর মণ্ডল। আর একজনের নাম প্রভাস সর্দার। তৃতীয়জনের নাম আনন্দ সর্দার। পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরও ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার। ধৃতদের জেরা করতেই বেরিয়ে এল হাড়হিম করা তথ্য। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের পিছনে ছিল অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ছক। চারজন মিলে এই পরিকল্পনা করেছিল। যদিও কোনও মুক্তিপণের ফোন মৃত নাবালিকার বাবার কাছে আসেনি। এখানেই তৈরি হয়েছে বিস্তর ধোঁয়াশা।
এদিকে সোমবারই ধৃতদের বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়। এই ঘটনার বিস্তারিত জানতে ধৃতদের হেপাজতে চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের সিট ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বারুইপুরের তিনটি থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করল পুলিশ। সোমবার সকাল থেকে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি হয়ে রয়েছে। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায়। বিএনএসের এই ধারা অনুযায়ী, তিন থানা এলাকায় পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। টহলদারি চলছে।
অন্যদিকে এই ঘটনায় নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সন্ধেয় ফোনে মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতে ভিডিও কল করে নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলে মৃতার মাকে আশ্বাস দেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। রাতে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ওই লোকসভার সাংসদ সায়নী ঘোষ।
তাছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকার এক স্কুলের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই নাবালিকাকে একটি অটোয় উঠতে দেখা যায়। সেই অটোচালক যুবককে হাতে পেয়ে উত্তেজিত জনতা ব্যাপক মারধর করে। তাতে তার মৃত্যু হয়। নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার নাবালিকার বাবাকে ভবানীভবনে সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, আনন্দ নামে এক যুবক ওই নাবালিকার গলায় পা দিয়ে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করে। আর প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ধর্ষণ নাকি গণধর্ষণ সে বিষয়ে কেউ মুখ খোলেনি। প্রভাস ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা হলো আনন্দ, প্রবীর, দিবাকর এবং রাজা। এরা সকলেই স্থানীয় যুবক। পুলিশ বাকিদের খুঁজছে। তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।




