• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 5 July, 2026

এমবাপের গুরুতর চোটের আশঙ্কায় ছিলেন দেশঁ! কঠিন শারীরিক লড়াই জিতে শেষ আটে ফ্রান্স

শেষ চারের লড়াইয়ে ওঠার লক্ষ্যে ৯ জুলাই বোস্টন স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হবে দু'বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মরক্কো।

এমবাপের গুরুতর চোটের আশঙ্কায় ছিলেন দেশঁ! কঠিন শারীরিক লড়াই জিতে শেষ আটে ফ্রান্স

Photo: X

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ জয় পেলেও ম্যাচের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশঁ। তাঁর দাবি, ম্যাচজুড়ে প্যারাগুয়ের ভয়ঙ্কর শারীরিক ফুটবল দেখে তিনি আশঙ্কা করছিলেন, তাঁর দলের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে না গুরুতর চোট পেয়ে যান।
ফিলাডেলফিয়ায় উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে প্যারাগুয়ে শুরু থেকেই কঠোর ট্যাকল, ফাউল এবং শারীরিক ফুটবলে ফরাসি ফুটবলারদের আটকে রাখার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপের পেনাল্টি গোলেই জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় ফ্রান্স।
ম্যাচ শেষে দেশঁ বলেন, “আমি ভয় পাচ্ছিলাম, ওরা (প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা) কিলিয়ানের ক্ষতি করে দেবে। ওরা খুবই আক্রমণাত্মক ও শারীরিক ফুটবল খেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা খুব সহজ ছিল না।”

ফরাসি কোচের মতে, এমন ম্যাচে শুধু ফুটবল দক্ষতা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও বড় পরীক্ষা।দেশঁর কথায়, “আমাদের ধৈর্য ধরতে হয়েছে। আমরা জানতাম সুযোগ আসবে এবং তাকেই কাজে লাগাতে হবে। শেষ পর্যন্ত ছেলেরা সেটাই করেছে।”

এ দিন ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে জয়ের একমাত্র গোলটি করেন এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাত। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি লিওনেল মেসির সমান গোল করলেও অ্যাসিস্টে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া বিশ্বকাপে মেসির সর্বকালের ২০ গোলের রেকর্ড থেকে এখন মাত্র এক গোল দূরে রয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।

শেষ ষোলোয় ওঠার পথে জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চমক দেখানো প্যারাগুয়ে এই ম্যাচেও শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। নিজেদের অর্ধেই অধিকাংশ খেলোয়াড়কে রেখে ফ্রান্সের আক্রমণ বারবার ভেস্তে দেয় তারা।

পুরো প্রথমার্ধে বলের দখল ফ্রান্সের কাছেই থাকলেও প্যারাগুয়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয় দিদিয়ে দেশঁর দলকে। দূরপাল্লার কয়েকটি শট ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেননি ফরাসি ফুটবলাররা। আর যেগুলো হয়েছিল, সেগুলিও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে তেমন কোনও পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেনি।

প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক ফুটবল নিয়ে দেশঁ বলেন, “আমি রেফারির সমালোচনা করতে চাই না। তবে আমরা ম্যাচ শেষ করেছি তিনটি হলুদ কার্ড নিয়ে, অথচ মাঠে আরও অনেক কিছুই ঘটছিল। তবুও আমরা নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ ধরে রেখেছিলাম। ম্যাচটা সহজ ছিল না। ওরা বলের পিছনে অনেক খেলোয়াড় রেখে রক্ষণ সামলেছে এবং দারুণভাবে ডিফেন্ড করেছে।”

এ দিন আবহাওয়াও খুব একটা অনুকুল ছিল না। যা নিয়ে দেশঁ বলেন, “প্রচণ্ড গরম থাকা সত্ত্বেও আমাদের আরও দ্রুত ফুটবল খেলা উচিত ছিল, বিশেষ করে রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার সময়। এমন পরিস্থিতিতে বল নিয়ে এগোনো, ড্রিবল করা এবং সুযোগ তৈরি করার চেয়ে ডিপ ডিফেন্স করা অনেক সহজ।”

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ফ্রান্স। দ্রুত নেওয়া একটি কর্নার থেকে উসমান দেম্বেলের জোরালো শট সাইড নেটে লাগে। এরপর একের পর এক আক্রমণে প্যারাগুয়ের রক্ষণে চাপ বাড়তে থাকে। সেই সময় মানু কোনের দূরপাল্লার শক্তিশালী শট দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক গিল, যিনি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব পান।

অবশেষে প্যারাগুয়ের প্রতিরোধ ভাঙে ৬৯ মিনিটে। ভিএআর পর্যালোচনার পর দেখা যায়, পেনাল্টি বক্সে ডিজায়ার দুয়েকে ফাউল করা হয়েছে। ফলে ফ্রান্স পেনাল্টি পায়। স্পট-কিক নিতে এসে কোনও ভুল করেননি কিলিয়ান এমবাপে। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তিনি বল জালে জড়িয়ে দেন। গিলকে ভুল দিকে পাঠিয়ে নিজের সপ্তম বিশ্বকাপ গোল করার পাশাপাশি নিশ্চিত করেন কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
ফরাসি কোচ মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা পরের ম্যাচগুলিতে তাঁদের কাজে লাগবে। বলেন, “এই অভিজ্ঞতা আমাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। কারণ, আমাদের দলে এমন অনেক খেলোয়াড় রয়েছে, যারা প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে। আমি বলব না যে এখন পর্যন্ত আমাদের পথ চলা খুব সহজ ছিল। তবে এবার আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের একটি ম্যাচ খেলেছি, যা আমাদের আরও সমৃদ্ধ করবে।”

এদিকে ম্যাচের নায়ক এমবাপেও প্যারাগুয়ের কৌশল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ফরাসি অধিনায়ক বলেন, “ওরা নোংরা ফুটবল খেলতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরাও সেই ধরনের ম্যাচ খেলতে পারি। এতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। জিততে হলে কখনও কখনও হাত নোংরা করতেও হয়। আজ আমরা সেটাই করেছি।”

এবার শেষ চারের লড়াইয়ে ওঠার লক্ষ্যে ৯ জুলাই বোস্টন স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হবে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মরক্কো।

পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশঁ বলেন, “মরক্কো বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। চার বছর আগে দোহায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম। ওরা আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালেও উঠেছিল। এখন আমাদের হাতে কয়েক দিন সময় আছে নিজেদের পুরোপুরি ঝালিয়ে নেওয়ার। আমাদের দলে কয়েকজন ফুটবলার ক্লান্ত, আবার কয়েকজন ছোটখাটো চোটের সমস্যাতেও ভুগছে”।