• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 3 July, 2026

ইয়ামালের নজির গড়ার ম্যাচে জোড়া গোল করে নায়ক ওইয়ারসাবাল, শেষ ষোলোয় পর্তুগালের সামনে স্পেন

অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠার ম্যাচে স্পেনের হয়ে শুরুতেই নামেন বার্সেলোনার দুই কিশোর ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল ও পাও কুবারসি

ইয়ামালের নজির গড়ার ম্যাচে জোড়া গোল করে নায়ক ওইয়ারসাবাল, শেষ ষোলোয় পর্তুগালের সামনে স্পেন

Photo: Representational Image

বিশ্বকাপে ফের ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি এমন এক কীর্তি গড়লেন, যা তাঁকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের পাশে বসার জায়গা করে দিয়েছে।

অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠার ম্যাচে স্পেনের হয়ে শুরুতেই নামেন বার্সেলোনার দুই কিশোর ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল ও পাও কুবারসি। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একই দলের হয়ে দুই কিশোরের একসঙ্গে প্রথম এগারোয় থাকার ঘটনা ১৯৫৮ সালের পর এই প্রথম। সেই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এমন নজির গড়েছিলেন পেলে ও হোসে আলতাফিনি।

যদিও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ইয়ামাল গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি, তবুও পুরো ম্যাচজুড়ে তাঁর সুযোগ তৈরির প্রবণতা, গতি এবং আক্রমণভাগকে সচল রাখার মরিয়া চেষ্টা স্পেনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার ব্যতিব্যস্ত করে তিনি সতীর্থদের জায়গা তৈরি করে দেন এবং স্পেনের আক্রমণকে ধারালো করে তোলেন।

ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোলের উদ্দেশে শট নিয়ে স্পেনের আক্রমণাত্মক মেজাজের ইঙ্গিত দেন ইয়ামাল। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণের তীব্রতা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়তে থাকে। এক সময় কর্নার কিক থেকে মার্ক কুকুরেয়া বল জালে জড়ালেও গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারকে ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল করে দেন রেফারি।

ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে অচলাবস্থা কাটান মিকেল ওইয়ারসাবাল। বাঁ দিক থেকে মার্ক কুকুরেয়ার নিচু ক্রস পেয়ে প্রথম টাচেই দারুণ এক শটে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর তৃতীয় গোল।

বিরতির আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। অ্যালেক্স বাইনার ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এর পর লামিনে ইয়ামালের আরেকটি জোরালো শটও দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক শ্লাগার।

অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ার সুযোগ ছিল খুবই সীমিত। ম্যাচ তখন গোলশূন্য অবস্থায়, মার্সেল সাবিৎসারের বাড়ানো ক্রসে ঠিকমতো পা ছোঁয়াতে পারেননি মাইকেল গ্রেগোরিশ। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে সাবিৎসারের আরেকটি ক্রস থেকে হেড করেও বল গোলে রাখতে ব্যর্থ হন সাশা কালাইজদজিচ।

শেষ পর্যন্ত স্পেনই দ্বিতীয় গোল পেয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। বাঁ দিক থেকে অ্যালেক্স বাইনার নিখুঁত ক্রসে উঠে এসে হেডে বল জালে পাঠান পেদ্রো পোরো। এরপর লামিনে ইয়ামালের একটি শট গোললাইন থেকে ডেভিড আলাবা ক্লিয়ার করলেও তৃতীয় গোল পেতে আর দেরি হয়নি স্পেনের। আবারও মার্ক কুকুরেয়ার বাড়ানো ক্রস থেকে বল পেয়ে স্লাইডিং শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।

বিশ্বকাপের শুরুতেই সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করে ইয়ামাল একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছিলেন। তিনি বিশ্বকাপে গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হন। এই তালিকায় এখনও শীর্ষে রয়েছেন ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর বয়সে গোল করা ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে।

স্পেনের কোচিং স্টাফ এবং ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ামালের উপস্থিতি স্পেনের খেলায় নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে। চোট সারিয়ে দলে ফেরার পর থেকেই তাঁর ড্রিবলিং, বল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাটল ধরানোর ক্ষমতা স্পেনকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলেছে।

বার্সেলোনার আরেক প্রতিভাবান ডিফেন্ডার পাও কুবারসির সঙ্গে ইয়ামালের এই ঐতিহাসিক জুটি স্পেনের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী করে তুলল সমর্থকদের। ১৯৫৮ সালে পেলে যেভাবে বিশ্ব ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন, অনেকের মতে ইয়ামাল-কুবারসি জুটিও স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন স্বর্ণযুগের ভিত গড়ে দিতে পারে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইতিহাস গড়ার পর এখন স্পেনের লক্ষ্য আরও বড়। তরুণদের দাপট এবং অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গড়া দলটি বিশ্ব খেতাবের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছে। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল। ডালাসে এই ম্যাচ হবে ভারতীয় সময়ে ৭ জুলাই রাত সাড়ে বারোটায়।