বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরেকটি নাটকীয় ম্যাচের সাক্ষী থাকল ডালাস। দীর্ঘ সময় ধরে সমানে সমানে লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত এর্লিং হালান্ডের দেরিতে করা গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল নরওয়ে। ম্যাচজুড়ে আফ্রিকার দলটি দুর্দান্ত লড়াই করলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে হালান্ডের ক্ষিপ্রতা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান থামিয়ে দেয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই তাদের পরিচিত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে নরওয়ে। মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে ইউরোপের দলটি। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে সেই চাপেরই ফল মেলে। দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তরুণ উইঙ্গার আন্তোনিও নুসা।
গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে আইভরি কোস্ট। বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে তারা। কোচ এমার্স ফায়ের বদলি হিসেবে নামানো আমাদ দিয়ালো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৭৪ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে সমতা ফেরান তিনি। এই গোলের পর মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে।
কিন্তু বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড়রাই পার্থক্য গড়ে দেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে ওডেগার্ডের তৈরি আক্রমণ থেকে সুযোগ পেয়ে জোরালো ফিনিশে নরওয়ের জয়সূচক গোলটি করেন হালান্ড। তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ৫৩তম ম্যাচে এটি ছিল ৬০তম গোল—যা তাঁর অসাধারণ ধারাবাহিকতারই প্রমাণ আরও একবার দিল।
এই ম্যাচে আইভরি কোস্টের হার শুধু ভাগ্যের কারণে নয়, কিছু কৌশলগত ভুলও তাদের বিদায়ের অন্যতম কারণ। সমতা ফেরানোর পর রক্ষণকে আরও সংগঠিত রাখার বদলে তারা জয়ের জন্য সামনে উঠে আসে। সেই ফাঁকা জায়গার সুযোগই কাজে লাগায় নরওয়ে। অন্যদিকে নরওয়ে অপেক্ষাকৃত কম সুযোগ পেলেও সেগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জিতে নেয়।
আইভরি কোস্টের কাছে অবশ্য এই বিশ্বকাপ হতাশার মধ্যেও আশার বার্তা রেখে গেল। ২০১৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরে তারা প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠেছিল। তরুণ দলটি জার্মানি, ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে যে পরিণত ফুটবল খেলেছিল, তা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নকআউটের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার অভাবের জন্য শেষ পর্যন্ত তাদের মূল্য চোকাতে হল।
অন্যদিকে নরওয়ের সামনে এবার আরও বড় পরীক্ষা। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। হালান্ড-ওডেগার্ড জুটি যদি একই ছন্দ বজায় রাখতে পারে, তবে নরওয়ে যে আরও বড় অঘটন ঘটাতে সক্ষম, সেই ইঙ্গিত তারা ইতিমধ্যেই দিয়ে রেখেছে।




