উত্তরপ্রদেশের যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার ভোররাতে দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে ২৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, মথুরার রায়া থানার অন্তগর্ত ১১১ নম্বর মাইলস্টোনের কাছে একটি ভলভো স্লিপার বাসের সঙ্গে একটি ট্রেলারের সংঘর্ষ হয়। এর জেরেই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রের খবর, গোলা বাস সার্ভিস পরিচালিত ভলভো স্লিপার বাসটি প্রায় ৬৫ জন যাত্রী নিয়ে লখনউ থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। ট্রেলারটি বাসটির সামনেই যাচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোর ৩টে ৩৫ মিনিট নাগাদ যাত্রিবাহী বাসটি সামনে থাকা ট্রেলারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের জেরে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
পুলিশ সূত্রের খবর, দুর্ঘটনার পরে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আওয়াজ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারাই এরপরে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলেই বাসের চালক, কন্ডাক্টর-সহ এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। পুলিশ আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে করে মথুরা জেলা হাসপাতাল ও অনন্ত কীর্তি হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে অনেকে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ, দমকল এবং স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুরেশ চন্দ্র রাওয়াত, মহাভান সার্কেলের পুলিশ আধিকারিক ও রায়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। দীর্ঘ সময় ধরে এসডিআরএফ ও দমকল কর্মীরা বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে। দ্রুত তাঁদের পরিবারের সদস্যদের খবর পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরে জেলা প্রশাসনও তৎপর হয়ে ওঠে। জেলা শাসক চন্দ্র প্রকাশ সিং এবং সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ শ্লোক কুমার মথুরা জেলা হাসপাতাল ও অনন্ত কীর্তি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন।
জেলা শাসক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আহতদের চিকিৎসায় কোনও রকম গাফিলতি না হয়। এর পাশাপাশি আহতদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবোর্চ্চ মানের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।




