মাঝেমধ্যে মুষলধারে বৃষ্টি হলেও রাজ্যে গরম কিন্তু কমেনি। বরং তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে আট থেকে আশির। এই আবহে জোরকদমে চলছে স্কুল। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা এই খামখেয়ালি আবহাওয়াকে সঙ্গী করেই স্কুলমুখো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস তুলে পঠনপাঠন করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। রোদ্দুরের তেজ সহ্য করে ঘর্মাক্ত অবস্থায় স্কুলে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা। এমনকী অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়ছে। তাই প্রবল গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় শিশুদের জন্য মর্নিং স্কুল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।
এদিকে সকালের স্কুলের নির্দেশিকা আগেই জারি করা হয়েছিল। এবার তার সময়সীমা বৃদ্ধি পেল। পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত সকালে স্কুল চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুলশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে। তাতে গরম খানিকটা কম লাগবে। আর যখন প্রখর রোদ উঠবে তখন পড়ুয়ারা বাড়িতে থাকবে। অর্থাৎ ঝাঁ-ঝাঁ রোদ্দুর ওঠার আগেই বাড়ি পৌঁছে যাবে স্কুলপড়ুয়ারা। সুতরাং গরম লাগবে না পড়ুয়াদের।
অন্যদিকে বাংলায় বর্ষা ঢুকেছে বলে দাবি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। তারপরও পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় তীব্র গরম রয়েছে। তাপপ্রবাহ চলার জেরে স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে। রাজ্যের পার্বত্য অঞ্চল অর্থাৎ পাহাড়ের জেলাগুলি বাদে বাকি সমস্ত জেলার জন্য এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কারণ পাহাড়ে বর্ষার ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে।
তাছাড়া মর্নিং শিফটে ক্লাস করার জন্য উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে স্কুলগুলির পক্ষ থেকে। বেশ কয়েকটি জেলায় অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ার জেরে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন তাঁদের অধীনস্থ স্কুলগুলিকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সকালের শিফটে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আবহাওয়ার কথা। তবে পড়াশোনার ক্ষতি না করে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সব স্কুলকে যেন এই বিষয়ে আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগে থেকে জানিয়ে দিলে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা সেই মতো তাদের সময়সূচি পরিবর্তন করতে বা মানিয়ে নিতে পারবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।




