টানা চারদিনের হামলা ও পাল্টা হামলার পর আপাতত সংঘর্ষ থামাতে সম্মত হয়েছে আমেরিকা ও ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতেবেদন অনুযায়ী, এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, উভয় পক্ষই আপাতত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউ-এর শর্ত মেনে আপাতত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ অবাধভাবে চলাচল নিশ্চিত করবে ইরান। এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলির উপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন।
গত সপ্তাহে সুইৎজারল্যান্ডে হওয়া বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল দ্রুত সমন্বয় করা যায়। ইরানের তরফে এই যোগাযোগে থাকবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। তবে শনিবার পর্যন্ত সেই হটলাই চালু হয়নি।
অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীর কাছে ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ওই হামলার জন্য দায়ী ইরান। তবে তেহরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং মার্কিন বাহিনীকেই এই হামলার জন্য দায়ী করে।
এরপর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। আমেরিকা ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। কুয়েতত ও বাহরিনে বোমাবর্ষণ করা হয়। একই সময় হরমুজ প্রণালীতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারেও হামলার খবর সামনে আসে। শনিবার পর্যন্ত সংঘর্ষ চলতে থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান হামলা চালিয়ে গেলে ওয়াশিংটন আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। এমনকী তিনি দাবি করেন, ইরানের অস্তিত্বও সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান। এর জেরে ফেল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে সেই আশঙ্কার মধ্যেই দুই দেশ আপাতত সংঘর্ষ বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষায়, ‘সমঝোতা অনুযায়ী প্রযুক্তিগত আলোচনা চলছে। আপাত দুই পক্ষই সংঘর্ষ থেকে সরে আসবে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।‘
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারও এই কূটনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় রয়েছে। মঙ্গলবার দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করার পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘর্ষবিরতির অন্যতম শর্ত হিসেবে লেবানন ইজরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছিল ইরান। এরই মধ্যে গত শুক্রবার আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই চুক্তিতে লেবানন থেকে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লার কার্যকলাপ সীমিত করা এবং দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব লেবাননের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে চুক্তির পরও শনিবার ও রবিবার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার অবস্থান লক্ষ্য করে ইজরায়েলের হামলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এই সংঘাত এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে। মঙ্গলবার দোহায় হতে চলা বৈঠকে এই বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।




