• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 28 June, 2026

‘চোর ধরার’ নীতিতে সমর্থন করলেন কল্যাণ, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বড় দাবি সাংসদের

পরিবহণমন্ত্রী ছিলেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। দল হেরে যেতেই তিনি বলেছিলেন, রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

‘চোর ধরার’ নীতিতে সমর্থন করলেন কল্যাণ, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বড় দাবি সাংসদের

ক্ষমতা থেকে সরে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তারপর থেকে ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। সাংসদরা একসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সরে গিয়ে পৃথক দল এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। বিধায়কদের একাংশও নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে বিধানসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। এখন দলের প্রতীক এবং তহবিলও কেড়ে নিতে চাইছেন। সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘চোর ধরার’ নীতিকে সমর্থন করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ‘ঋতপন্থী’ তৃণমূলীদের জেলে ভরার দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।

এদিকে কিছুদিন পরই একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ। বিরোধী আসনে বসে ভাঙা দল নিয়ে রাজপথ ভরাতে পারবেন কিনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা নিয়ে চলছে নানা চর্চা। এই পরিস্থিতিতে ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, সাংসদদের কড়া ভাষায় বিঁধলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। ইতিমধ্যেই একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে সভা শুরু হয়ে গিয়েছে নানা জেলায়। হুগলি জেলাতেও তা শুরু হয়েছে। রবিবার সেই সভা শেষে জেলা সভাপতি অসিত মজুমদার জানান, কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন। তিনি বিশ্বাস করেন মমতা আবার মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবেন। কিন্তু ওই সভা থেকে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে বিদ্রোহী বিধায়ক-সাংসদদের ওই সভা থেকে তুলোধনা করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। কাউকে রেয়াত করেননি তিনি। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর চোর ধরার নীতিকে সমর্থন জানিয়ে এই বিদ্রোহীদের জেলে ভরার দাবি করলেন তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তৃণমূলের শাসনকালে হুগলির অনেক বিধায়ক এবং তাঁদের শাগরেদরা প্রচুর মাল কামিয়েছেন। স্নেহাশিসের সঙ্গে যারা থাকতো তারা বিপুল মাল কামিয়েছে। এখন বলছে আর তৃণমূল করি না।’ পরিবহণমন্ত্রী ছিলেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। দল হেরে যেতেই তিনি বলেছিলেন, রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, ঋতব্রত গোষ্ঠীতে গিয়ে যোগ দিয়েছেন।

তাছাড়া বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, যারা অন্যায় করেছে, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে, তোলাবাজি থেকে নারী নির্যাতনে অভিযুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না। এসব ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে সরকার চলবে। চোরেরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে। এই নীতিকে এবার সরাসরি সমর্থন করে আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি করলেন, ‘আপনি বলেছেন তৃণমূলের যারা যারা চুরি করেছে, মাল কামিয়েছে তাদের অ্যারেস্ট করবেন। এতে আমার সমর্থন আছে। ঋতব্রতর সঙ্গে যারা গিয়েছে তাদের দেখুন। সব চোরগুলো গিয়েছে। চোরের সঙ্গে চোর মিলেছে তবেই না বিক্ষুব্ধ তৃণমূল তৈরি হয়েছে। এরা প্রচুর মাল কামিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বি ব্লক আর দিল্লিতে এনডিএ বি ব্লক। সব বাঁচার জন্য গিয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলব আমাদেরকে টার্গেট করছেন কেন? সব চোর ডাকাত ঋতব্রতর দলে ঢুকে গিয়েছে তাদের ধরুন।’