• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 27 June, 2026

ড্রোন যুদ্ধের প্রস্তুতিতে দক্ষিণ কোরিয়া, প্রশিক্ষণ পাবে পাঁচ লাখ সেনা

দেশের পাঁচ লাখ সেনাকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।  ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ।

ড্রোন যুদ্ধের প্রস্তুতিতে দক্ষিণ কোরিয়া, প্রশিক্ষণ পাবে পাঁচ লাখ সেনা

আধুনিক যুদ্ধের চেহারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ট্যাঙ্ক, কামান বা যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে ড্রোন। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে দেশের পাঁচ লাখ সেনাকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

শুক্রবার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তাঁরা নিজের ব্যক্তিগত অস্ত্রের মতোই দক্ষতার সঙ্গে ড্রোন ব্যবহার করতে পারেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের জন্য ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯-এর মধ্যে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। ২০৩০-এর মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে সিওল।

উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক ক্ষমতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিওল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনই হবে সবচেয়ে বড় গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে। আর তারই প্রস্তুতিতেই এখন জোর দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। যদিও বিশ্বের একাধিক দেশ এই মুহূর্তে ড্রোন যুদ্ধে নিজেদের পারদর্শিতা দেখিয়ে দিয়েছে। পিছিয়ে নেই ভারতও। সামরিক ভাঁড়ার পূরণ করার জন্য বিপুল পরিমাণে ড্রোন দিয়ে নিজেদের ভাণ্ডার প্রস্তুত করে রেখেছে। সেই সঙ্গে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন আকাশপথেও একের পর এক ড্রোন পাঠিয়ে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে। বর্তমাণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোনের চাহিদা বেড়েছে পাল্লা দিয়ে।  যদিও দীর্ঘদিন সামরিক ক্ষেত্রে সেভাবে নজর দেয়নি দক্ষিণ কোরিয়া। বরং নিজেদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো তৈরিতে বেশি নজর দিয়েছিল। বর্তমানে দক্ষিণ  কোরিয়ার প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এমনকি গাড়ি তৈরিতেও জনপ্রিয় দক্ষিণ  কোরিয়া। কিন্তু বর্তমাণ বিশ্বের পরিস্থিতি দেখে নিজেদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার আচমকা আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য নিজেদের সামরিক ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। আর তারই ভাগ হিসেবে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে তারা। মনে করা হচ্ছে এমনই। তবে ওই সকল ড্রোন যে তারা নিজেদের প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করবে না কি বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহারর করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এখন দেখার সামরিক ক্ষেত্রে কতটা নিজেদের প্রভাব দেখায় দক্ষিণ কোরিয়া।