• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 27 June, 2026

হরমুজে হামলার পাল্টা জবাব: হিংসার বদলে হিংসার বার্তা জেডি ভান্সের, তেহরানেরও হুঁশিয়ারি

হরমুজে পণ্যবাহী জাহাজে হামলার জেরে মার্কিন-ইরান সমঝোতা চুক্তি চাপে

হরমুজে হামলার পাল্টা জবাব: হিংসার বদলে হিংসার বার্তা জেডি ভান্সের, তেহরানেরও হুঁশিয়ারি

ইরানের উপর ফের হামলা চালাল আমেরিকা। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজের উপর হামলার জবাব দিল আমেরিকা। শুক্রবার ইরানের উপকূল অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের গুদামে হামলা চালায় আমেরিকা। পাশাপাশি উপকূলীয় রাডার কেন্দ্রগুলিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। আমেরিকার দাবি, গত বৃহস্পতিবার মউ-এর শর্ত ভেঙে ইরান হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনার জবাবেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।

হামলার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভি ভান্স সমাজমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ইরান যদি সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে আপত্তি জানাতে চায়, তবে কূটনৈতিক পথে আলোচনা করতে পারে। তবে হিংসার জবাব হিংসার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, তেহরান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ইরানের দাবি, জাহাজে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকাই এবং তারাই প্রথম সমঝোতার শর্ত ভেঙেছে। ওমান উপকূল দিয়ে জাহাজটি যাচ্ছিল। এর আগে হরমুজে মার্কিন অবরোধ চলাকালীন এই অংশে একাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকার সেনা। তবে ট্রামের দাবি, ইরানই জাহাজটির উপর হামলা চালিয়েছে।

একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, তারা পুনরায় হরমুজ প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করবে। সেই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকে আমেরিকার পাশে না দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের দাবি, মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকেও লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের গুদামে হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড। তবে ইরানের হামলা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি মার্কিন সেনাবাহিনী।

এদিকে, শুক্রবারই আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির অন্যতম শর্ত হল, হিজবুল্লাকে নিরস্ত্র করা এবং লেবানন থেকে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা। তবে হিজবুল্লা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই চুক্তিতে সহযোগিতা করবে না। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যেমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তেমনি আমেরিকা-ইরান সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।