একদিকে যখন মুম্বাইয়ে টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন অন্যদিকে বৃষ্টির অভাবে উদ্বেগ বাড়ছে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে। পর্যাপ্ত বর্ষা না হওয়ায় ১২টি রাজ্যের ১১১টি জেলায় এখনও খরিফ মরশুমের চাষের প্রস্তুতি শুরুই করা যায়নি। ধান-সহ বিভিন্ন ফসলের জন্য বীজতলা তৈরির কাজও থমকে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃষ্টির ঘাটতি অব্যাহত থাকলে চলতি খরিফ মরশুমে দেশের মোট ৩২৮টি জেলায় ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সভাপতিত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে অনাবৃষ্টির কারণে কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কৃষিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও রাজ্যগুলিকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ফসল উৎপাদনে বড় ধাক্কা না লাগে।
কেন্দ্র বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে ১২টি রাজ্য নিয়ে, তার মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা-সহ আরও কয়েকটি রাজ্য। কৃষি-আবহাওয়া সংক্রান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলগুলিতে এখনও পর্যন্ত গড়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে।
মহারাষ্ট্রে সাধারণত ১১ জুনের মধ্যে বর্ষা পৌঁছে যায়। কিন্তু এ বছর তা প্রায় ১২ দিন দেরিতে এসেছে। মুম্বাই ও তার আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি শুরু হলেও রাজ্যের বহু অংশ এখনও পর্যাপ্ত বর্ষার অপেক্ষায়। ফলে কৃষিকাজ শুরু করতে সমস্যার মুখে পড়েছেন চাষিরা।
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো হলেও উদ্বেগ একেবারে নেই, এমন নয়। রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় এখনও বীজতলা তৈরি শুরু করা যায়নি। ফলে ধান রোপণের কাজ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় রিপোর্টে বাংলাকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির তালিকায় রাখা হয়নি।
ভারতের কৃষি ব্যবস্থার বড় অংশই বর্ষার উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে খরিফ মরশুমে উৎপাদিত ধান দেশের খাদ্যচাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে। তাই বৃষ্টির ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্যশস্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যদিও কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কম বৃষ্টিতেও ভালো ফলন দেয় এমন ধানের বীজ দ্রুত কৃষকদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছে কেন্দ্র।




