রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণের জন্য ইউক্রেনে ভারতীয় সেনাকে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অফ ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে বইটিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকটি ডেকেছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কেলগ। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা পেশ করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা ভাবা হয়েছিল। প্রথমে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ভ্যান্স তার বিরোধিতা করেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনা ইউক্রেনে গেলে রাশিয়া সেটিকে উস্কানি হিসেবে ধরতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বিকল্প হিসেবে ভারত ও সৌদি আরবের মতো তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ দেশের সেনাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেন ভ্যান্স। কিন্তু বইটিতে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন। ট্রাম্পের মতে, ভারত এমন কোনও উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী হবে না। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই প্রস্তাবে সম্মতি দেবেন না।
বইটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়েছেন, মোদী তাঁকে পছন্দ করেন এবং তিনি আমেরিকা সফরে যেতে আগ্রহী। কিন্তু তবুও ভারত এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব নিতে রাজি হবে না বলেই তিনি জানান। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ব্রিটেন বা ফ্রান্স ইচ্ছে করলে নিজেদের সেনা পাঠাতে পারে। তবে তার জন্য আমেরিকার উপর অতিরিক্ত সামরিক বা আর্থিক বোঝা চাপানো চলবে না।’
বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের একটি রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে ইউক্রেনে রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলি নিয়ে, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বাহিনী মোতায়েনের মতো বিষয়গুলিও উঠে আসে। পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেস্কির নেতৃত্ব নিয়েও মার্কিন প্রশাসনের একাংশের সংশয়ের কথা বইয়ে উল্লেখ রয়েছে।




