পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়ে উঠেছে। তবে নতুন সরকার হওয়ায় বিরোধীরা কিছুটা সময় দিতে চাইছেন। সে কথা প্রকাশ্যে ঘোষণাও করেছেন। তবে তার মধ্যে দেখা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। ২০ জন সাংসদ মিলে যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই দলে। তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। যার তীব্র বিরোধীতা করেছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সেটা সবাই দেখেছেনও। কিন্তু এবার তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক এবং অতীতের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা তুলে ধরে প্রশংসা করলেন। আর তাতেই নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনীতির অঙ্গনে।
এদিকে বিধায়কদের একটা বড় অংশ নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে পৃথক অবস্থান নিয়েছেন বিধানসভায়। সুতরাং সবদিক থেকে অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দুটি ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। এক, কালীঘাট তৃণমূল এবং দুই, ঋতব্রত তৃণমূল। এই আবহে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে মহুয়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘শুভেন্দুর সঙ্গে আমার আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। আর রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ে শুভেন্দুই আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিলেন।’
অন্যদিকে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে আসার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা একে একে জেলে যাচ্ছেন। মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এই পরিস্থিতিতে ওই সাক্ষাৎকারে মহুয়ার বক্তব্য, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যদি বাপি হালদার বা শতাব্দী রায়ের সমস্যা ছিল সেটা তাঁরা আগে বলতে পারতেন। তাঁরা লোকসভা নির্বাচনে না লড়তেও পারতেন। এই একই সমস্যা তো শুভেন্দু অধিকারীরও ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ‘নাম্বার টু’ করে দেন। শুভেন্দু মনে করেছিলেন, সেটা তাঁর প্রাপ্য। তিনি বুঝে যান, অভিষেক থাকলে দলের তাঁর বৃদ্ধি হবে না। তাই তিনি দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। পাঁচ বছর লড়াই করেছেন, তার পর ক্ষমতায় এসেছেন।’
তাছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক বিধায়ক-সাংসদ মুখ খুলেছেন। তবে সেটা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর। সেখানে সংবাদমাধ্যমে মহুয়া মৈত্র বলছেন, ‘ব্যক্তিগত স্তরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। আমরা যখন তৃণমূলে একসঙ্গে ছিলাম, তখন উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন। ২০১৪ সালে আমার লোকসভার টিকিট পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাইনি। সারারাত কেঁদেছিলাম। তখন শুভেন্দুই আমাকে সাহস জুগিয়েছিলেন। না বোন, আমি আছি তোমার সঙ্গে। করিমপুর থেকে যখন প্রথম ভোটে দাঁড়াই, তখন দলের কোনও বড় নেতা প্রচারে আসেননি। প্রথম সভা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এখনও সেই ছবি রয়েছে। ওই মঞ্চে শুধু আমি আর শুভেন্দুই ছিলাম। আজ শুভেন্দু অন্য দলে আছেন। তাই আগের মতো কথা হয় না। কিন্তু তিনি আমাকে যে সাহায্য করেছিলেন, সেটা আমি কোনওদিন ভুলতে পারব না।’




