বিধানসভার অধিবেশনে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে রাজনৈতিক হিংসা, দুর্নীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে অধিবেশনের শেষ দিনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিল আনার ঘোষণা করেন তিনি।
বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুললেও অতীতে বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, মিথ্যা মামলা এবং ক্যাঙ্গারু কোর্টের রাজনীতি চালিয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মগরহাট পশ্চিমে বিজেপি প্রার্থী মানস সাহা কাউন্টিং হলের ভিতরে খুন হয়েছিলেন।
সেই সময় এক লক্ষেরও বেশি বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সে সময় প্রায় ২ হাজার অভিযোগ জমা পড়লেও মাত্র ১,১০০টি নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং ৫৭ জনের মৃত্যুর অভিযোগ সামনে এসেছিল। বর্তমানে ২১৯টি অভিযোগের ভিত্তিতে এবং স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মোট ২৬২টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ১০২টি মামলা করা হয়েছে এবং আন্দোলন বা রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি পেতে ১০৪ বার আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। দোল পূর্ণিমা, রাম নবমী-সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে লোক ভবনে প্রবেশ করতে হয়েছিল বলেও জানান।
প্রাক্তন সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের জন্য এক বছরে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা ফিকিকে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১,৮০০ জনকে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ৬০০ কিলোমিটার জুড়ে সম্পূর্ণ বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড়া হবে না। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তোলা হবে এবং সেই অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে আরজি কর, হাসখালি, কামদুনি, কসবা ল’ কলেজ এবং তমন্না হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি মাফিয়া, গুন্ডা ও তোলাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন।
বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, কোনও নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে দুর্নীতি, তোলাবাজি ও অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।