• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 23 June, 2026

‘বিরোধীদের কর্মসূচিতে বাধা নয়’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অতীত স্মরণ করিয়ে সৌজন্য মুখ্যমন্ত্রীর

বিরোধীদের প্রতি তিনি যে সহানুভূতিশীল সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুরু থেকেই প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়ক, সাংসদদের ডাকছেন তিনি

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কড়া ভাষায় তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানায় তাঁর উপর হওয়া আক্রমণ, মামলা থেকে শুরু করে দুর্নীতি নিয়ে তুলোধনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তাঁর সঙ্গে হওয়া অসৌজন্য এবং বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনার খতিয়ান পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে যা হয়েছিল তার জন্য তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী বলেও কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। আর এই অভিযোগ তোলার পর থেকে রাজ্য-রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার অতীতের কথা স্মরণ করিয়েও সৌজন্য দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে বিধানসভা অধিবেশনের শুরু থেকেই উত্তপ্ত বাতাবরণ তৈরি হয়ে যায়। কারণ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে সরব হন। যদিও তৃণমূল এখন ভেঙে খান খান হয়ে গিযেছে। এই আবহে জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সুর চড়িয়ে বলেন, ‘একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর ৫৭ জন খুন হয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার হয়েছিল। যে অত্যাচার হয়েছে তা সভ্য দেশে হয় না। বাঁকুড়ায় কোতুলপুরে আলুচাষী আত্মহত্যা করেছেন। আমি গেছি হরকালী প্রতিহার আমায় আটেকেছে। ভবানীপুরে হোলি কা দহন করতে দেননি, রামনবমীর মিছিলে হাঁটতে দেননি, মোথাবাড়িতে হাঁটতে দেননি, ধুলিয়ানে হিন্দু গ্রাম লুঠ করেছেন, আমাকে ঢুকতে দেননি। মহেশতলায় তুলসিমঞ্চ তুলে ফেলে দিলেন, রবীন্দ্রনগরে হাইকোর্ট করে গেছি। রাজভবনে ঢুকতে দেননি, কলকাতা পুলিশকে দিয়ে তাড়িয়েছেন। হাইকোর্ট করে গেছি। তখনই বলেছিলাম প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। যা করেছেন, পৃথিবী গোল। জনতা শিক্ষা দেবে। শিক্ষা দিয়ে দিয়েছে।’

অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতি তিনি যে সহানুভূতিশীল সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুরু থেকেই প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়ক, সাংসদদের ডাকছেন তিনি। যা আগে ঘটেনি। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অতীতের কথা মনে করিয়েও সৌজন্য দেখিয়ে বলেন, ‘বিরোধীদের কর্মসূচিতে বাধা নয়। রোজ মিছিল করুন, কিন্তু ফিরতে পারবেন না। বিরোধীদের প্রতিটি প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হয়েছে। কিন্তু আমি যখন বিরোধী দলনেতা ছিলাম তখন প্রত্যেক পদক্ষেপে বাধা দেওয়া হয়েছে। যত খুশি রোজ মিছিল করুন। ২০১১ সালের পরিবর্তনে আমি রাস্তায় ছিলাম। আমি জানি আর আসতে পারবেন না।’

তাছাড়া এবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘আমরা এই রাজ্যকে দাঁড় করাতে চাই। আমাকে অনুমতি দেওয়া হতো না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, রানি রাসমণিতে বসব। পুলিশ আমায় জিজ্ঞাসা করল কী করব? আমি বললাম ওয়াই চ্যানেলে দিন। যত খুশি মিছিল করুন। ২০১১ সালের পরিবর্তনে আমি রাস্তায় ছিলাম। আমি জানি আর আসতে পারবেন না। তৃণমূল সরকার পাঁচ বছরে কতবার আমাকে হাউস থেকে বের করেছেন? পাঁচবার বের করেছেন। সাড়ে ১১ মাস বাইরে রেখেছেন। কতগুলি মামলা করেছেন? ১০২ মামলা হয়েছে। আমরা এখনও বলিনি মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগাতে।’