বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কড়া ভাষায় তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানায় তাঁর উপর হওয়া আক্রমণ, মামলা থেকে শুরু করে দুর্নীতি নিয়ে তুলোধনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই প্রত্যেক বছর ঘটা করে ‘বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন’ (বিজিবিএস) করার মধ্যে দিয়ে যে বিরাট দুর্নীতি হয়েছে সেই অভিযোগও তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী এই দুর্নীতির সঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জড়িত বলেও কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। আর এই অভিযোগ তোলার পর থেকে রাজ্য-রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার সেই দুর্নীতির ফাইল খুলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের নামে বিরাট দুর্নীতি হয়েছে। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বণিকসভা ফিকিকে ৩২৪ কোটি টাকারও বেশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাইয়ে দিয়েছেন বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে বিধানসভা অধিবেশনের শুরু থেকেই উত্তপ্ত বাতাবরণ তৈরি হয়ে যায়। কারণ শুরু থেকেই কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে সরব হন। যদিও তৃণমূল এখন ভেঙে খান খান হয়ে গিযেছে। এই আবহে জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সুর চড়িয়ে বলেন, ‘একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর ৫৭ জন খুন হয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার হয়েছিল। যে অত্যাচার হয়েছে তা সভ্য দেশে হয় না। বাঁকুড়ায় কোতুলপুরে আলুচাষী আত্মহত্যা করেছেন। আমি গেছি হরকালী প্রতিহার আমায় আটেকেছে। ভবানীপুরে হোলি কা দহন করতে দেননি, রামনবমীর মিছিলে হাঁটতে দেননি, মোথাবাড়িতে হাঁটতে দেননি, ধুলিয়ানে হিন্দু গ্রাম লুঠ করেছেন, আমাকে ঢুকতে দেননি। মহেশতলায় তুলসিমঞ্চ তুলে ফেলে দিলেন, রবীন্দ্রনগরে হাইকোর্ট করে গেছি। রাজভবনে ঢুকতে দেননি, কলকাতা পুলিশকে দিয়ে তাড়িয়েছেন। হাইকোর্ট করে গেছি। তখনই বলেছিলাম প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। যা করেছেন, পৃথিবী গোল। জনতা শিক্ষা দেবে। শিক্ষা দিয়ে দিয়েছে।’
অন্যদিকে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত বাজেটের উপর আলোচনা চলবে। মঙ্গলবার সেই আলোচনার মাঝেই বিজিবিএসে দুর্নীতি হয়েছে বলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি তোপ দাগেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অধিবেশনে উপস্থিত বিরোধী বিধায়কদের সামনে ফাইল দেখিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আপনার নেত্রী কি কি কাণ্ড ঘটিয়েছে দেখবেন? বিজিবিএস নিয়ে খুব বড় বড় কথা বলেন না। ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা ফিকিকে দিয়েছেন। এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট রাজ্য সরকার করেছে। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ফিকিকে সরাসরি ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা আপনার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিয়ে দিয়েছেন।’
তাছাড়া কদিন আগেই ‘বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, বিজিবিএস করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে মোট ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। এটারও তদন্ত হবে। শুধু তদন্ত নয়, মামলা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘প্রয়োজনে আর্থিক তছরুপের যাঁরা তদন্ত করেন, তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। আমরা এই রাজ্যকে দাঁড় করাতে চাই। আমাকে অনুমতি দেওয়া হতো না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, রানি রাসমণিতে বসব। পুলিশ আমায় জিজ্ঞাসা করল কী করব? আমি বললাম ওয়াই চ্যানেলে দিন। যত খুশি মিছিল করুন। ২০১১ সালের পরিবর্তনে আমি রাস্তায় ছিলাম। আমি জানি আর আসতে পারবেন না। তৃণমূল সরকার পাঁচ বছরে কতবার আমাকে হাউস থেকে বের করেছেন? পাঁচবার বের করেছেন। সাড়ে ১১ মাস বাইরে রেখেছেন। কতগুলি মামলা করেছেন? ১০২ মামলা হয়েছে। আমরা এখনও বলিনি মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগাতে।’




