• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 23 June, 2026

‘স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন যুগের সূচনা’, বাজেটের স্বাস্থ্য রোডম্যাপ তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শরদ্বত মুখোপাধ্যায়

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, 'এই বাজেট শুধু হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নয়, বরং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ'

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী  শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, সুলভ চিকিৎসা, চিকিৎসক তৈরির সুযোগ বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবাকে শক্তিশালী করাই এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলিকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়াও ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত নাগরিক, আশা কর্মী, আইসিডিএস কর্মী এবং গিগ ওয়ার্কারদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। যাঁরা এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন, তাঁদের চিকিৎসা খরচে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
উত্তরবঙ্গে একটি নতুন এইমস  এবং একটি সুপার-স্পেশালিটি ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির ঘোষণাকেও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি সুন্দরবন, পুরুলিয়া ও দার্জিলিংয়ে সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, সিউড়ি সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালকে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করা হবে। এছাড়া আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর ও পশ্চিম বর্ধমানে নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে ৬৫০টি এমবিবিএস এবং ৪৫০টি পিজি আসন বৃদ্ধি করা হবে।
রাজ্যজুড়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্র  এবং অমৃত প্রকল্পের আওতায় কম দামে ওষুধ, অস্ত্রোপচার সামগ্রী এবং ইমপ্ল্যান্ট সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। জেলা ও মহকুমা হাসপাতালগুলিতে এই পরিষেবা চালু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।মেডিক্যাল ট্যুরিজমকে উৎসাহ দিতে পাঁচটি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে আধুনিক সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ৫০ শতাংশ শয্যায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
সুন্দরবনের জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দ্বীপভিত্তিক প্রসূতি ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, ভাসমান স্বাস্থ্য ইউনিট এবং অত্যাধুনিক মোটরবোট অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া মুম্বই ও ভেলোরে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগী ও তাঁদের পরিজনদের থাকার ব্যবস্থা পিপিপি মডেলে গড়ে তোলা হবে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও বড় ঘোষণা রয়েছে। আশা কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি ভেক্টর কন্ট্রোল টিম ও ভেক্টর সার্ভেইলেন্স টিমের দৈনিক পারিশ্রমিক ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘এই বাজেট শুধু হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নয়, বরং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ। শহর থেকে গ্রাম, পাহাড় থেকে সুন্দরবন— সর্বত্র উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।’