জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দলের দেওয়া পদ থেকে সরে গিয়েছেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর বিপদের সময়ই তাঁর কাছ থেকে সরে গিয়েছেন। দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম দিনের সৈনিক জ্যোতিপ্রিয়৷ তবে তিনি তৃণমূল ছাড়লেও বিপদ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ছাড়ল না। এবার সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের ফাইল খুলতে চলেছে বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যেই বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ড, শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম জড়িয়েছিল। এবার সেই ফাইল খুলতে চলেছে বিজেপি সরকার।
এদিকে এবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সুস্থতা কামনা করেই সুটিয়া গণধর্ষণের ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর তা নিয়েই রবিবাসরীয় দিনে রাজ্য-রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। ২০১২ সালের ৫ জুলাই শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুন হয়েছিলেন। সুটিয়া গ্রামে মহিলাদের গণধর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদ করার পরে হঠাৎ একদিন খুন হয়ে যান বরুণ বিশ্বাস৷ তখন এলাকায় প্রতিবাদ মঞ্চ করে অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে ২০০০ সালে প্রবল বন্যায় এলাকার নদী সংস্কারের জন্য আন্দোলন করেছিলেন শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। তখন ৩৪ কোটি টাকার অনুমোদন আসে ওই খাতে৷ পরে বড় অংশের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে। তা নিয়েও সরব হয়েছিলেন বরুণ বিশ্বাস। এইসব কারণে তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এসবের পিছনে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তাঁর দল ক্ষমতায় ছিল বলেই জ্যোতিপ্রিয়র টিকি ছোঁয়া যায়নি।
তাছাড়া এখন রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। সব ঘটনারই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সেই তালিকায় যুক্ত হলো বরুণ বিশ্বাস খুনের তদন্ত। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। আমি চাই উনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন। ছোট থেকেই শুনে আসছি সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের কথা। ওই গ্রামকে ধর্ষণের গ্রাম বলা হতো। মহিলাদের বাঁচাতে গিয়ে এবং ধর্ষণের প্রতিবাদের জন্য শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। ওই খুনের পিছনে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামও উঠে আসে। বরুণ বিশ্বাসকে কে খুন করেছে এবার তার ফাইল খোলা হবে। উপযুক্ত শাস্তিও দেওয়া হবে। দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেও দোষী হলে তিনিও রেহাই পাবেন না।’




