• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 20 June, 2026

‘দুর্নীতির গর্ত ভরাট করতে সময় লাগবে’, তিন দলকেই তারকেশ্বর থেকে ঠুকলেন প্রধানমন্ত্রী

বামেদের জমানাতেও যে অপশাসন চলেছিল লে কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর কথায়। একইসঙ্গে কৃষকদের কাছে বড় আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সঙ্গে থাকার নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার তারকেশ্বরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী জানান, একটা সময় ছিল যখন পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছিল। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিল কংগ্রেসও। তখন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। রক্তে লেখা ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালি দাঙ্গা’। শনিবার রাজ্যের প্রথম পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতে এসে এভাবেই বিগত সরকারগুলিকে তুলোধনা করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে তারকেশ্বরের মঞ্চে ডোকরার দুর্গামূর্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারকনাথের একটি ছবিও প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন শুভেন্দু অধিকারী। মোদীর হাতে তুলে দেন রসগোল্লা এবং জলভরা সন্দেশও। এখানেই বাংলার প্রত্যেকটি কোণা থেকে তাজা হাওয়া আর সুগন্ধ অনুভব করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে বাংলা। এই পরিবর্তন ভাল লাগছে তো? প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বাংলার পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছি। তৃণমূল যেভাবে দুর্নীতির গর্ত খুঁড়েছিল সেটা ভরাট করতে সময় লাগবে। তবে ডবল ইঞ্জিন সরকার দ্বিগুণ গতিতে কাজ শুরু করছে। বিকাশে নতুন গতি এসেছে। গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থা আরও মজবুত হয়েছে। কৃষি, মৎস্যপালন, রাস্তা তৈরিতে কাজ চলছে।’

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করা হতো। তবে সরকার বদলের পর ঠিক হয়েছে ২০ জুনই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে। কলকাতার হিংসা যা ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ বলে পরিচিত, সেইসঙ্গে নোয়াখালির দাঙ্গা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘কলকাতার হিংসায় কত বাঙালির মৃত্যু হয়েছিল। তারপর হয়েছিল নোয়াখালির দাঙ্গা। এখানকার মানুষ মাতভূমিকে টুকরো হতে দেখেছিল। গোটা পশ্চিমবঙ্গকে ভারত থেকে আলাদা করে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তা হতে দেননি। সেদিন তিনি না থাকলে আজকের পশ্চিমবঙ্গ হতো না। কংগ্রেস তো হাল ছেড়ে দিয়েছিল। যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার চেষ্টা হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস ওই ষড়যন্ত্রকারীদের সামনে আত্মসমর্পণ করেছিল। ইতিহাসকে নষ্ট করার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ভোলানোর চেষ্টা করেছিল।’

তাছাড়া বামেদের জমানাতেও যে অপশাসন চলেছিল লে কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর কথায়। একইসঙ্গে কৃষকদের কাছে বড় আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেস, তৃণমূলকে আগেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। এবার নরেন্দ্র মোদীর কথায়, ‘বামেদের সরকারও পশ্চিমবঙ্গকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভাল মানের চাষের জমি দিতে হবে। সারা দেশে ক্ষেত বাঁচাও অভিযান চলছে। তার মাধ্যমে মাটির মান বাঁচানো, রাসায়নিক সার কম ব্যবহার করা, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। চাষের জমির মান ভাল রাখার জন্য রাসায়নিক সরিয়ে জৈবিক পদ্ধতিতে চাষ করতে হবে। পিএম ফসল বিমা যোজনা কঠিন সময়ে চাষিদের পরিবারে সাহায্য করবে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে বিক্রি থেকে শুরু করে চাষ সংক্রান্ত নানা বিষয় ডিজিটালি দেখা যাবে। বাংলায় দশকের পর দশক ধরে বামপন্থী ও তৃণমূল যে গর্ত খুঁড়েছিল, সেটা ঠিক করার জন্য ডবল ইঞ্জিন সরকার সুপারফাস্ট স্পিডে কাজ করা শুরু করে দিয়েছে।’