• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 20 June, 2026

রেল অবরোধে এবার জিরো টলারেন্স নীতি রাজ্যের, কড়া সিদ্ধান্ত নবান্নের

শিয়ালদহ-সহ চারটি ডিভিশনে বারবার ঝান্ডা হাতে রেললাইন অবরোধের ঘটনা দেখা গিয়েছে

ফাইল চিত্র

অনেক সময়ই দেখা যায় রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। আর তার জেরে কর্মব্যস্ত দিনে নাকাল হন নিত্যযাত্রীরা। শুধু তাই নয়, প্রভাব পড়ে ট্রেন চলাচলে। পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই আবহে এবার রেল অবরোধ যাঁরা করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারতীয় রেল আইনের (১৯৮৯) ১৭৪ ধারা অনুযায়ী ট্রেন চলাচলে বাধা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। রেললাইনে বসে থাকা, হোস পাইপ নষ্ট করা এবং প্রয়োজনীয় সিগনালিং সরঞ্জামের ক্ষতি করলে সেটাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে দেখা হবে। সেক্ষেত্রে অবরোধকারীর ২ বছর পর্যন্ত জেল, ২ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। এমনকী দুটোই হতে পারে। এই আইন এবার কার্যকর করা হবে রাজ্যে।

এদিকে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও রেল রোকো কর্মসূচি নেওয়া হয়। ট্রেনের ওভারহেড তারে কলাপাতা ফেলে দিয়ে পরিষেবা বিঘ্নিত করতেও দেখা যায়। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদের একটা পথই হয়ে ওঠে রেল অবরোধ। এবার থেকে আর এসব করা যাবে না। রেলের একাধিক প্রকল্প এখন রাজ্যে হতে চলেছে। সেখানে এইসব অবরোধ, বাধা দিলে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। কদিন আগেই রাজ্যে এসেছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। তখন রেলের নানা প্রকল্পে ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী। তাই রাজ্যের উন্নয়নে আর এসব বরদাস্ত করা হবে না বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে রেলের পথে ঝান্ডা লাগিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি করার জেরে ট্রেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না। দেরি হয়ে যায়। আবার ট্রেন দেরিতে চলছে বলেও নিত্যযাত্রীরা পথ আটকে বিক্ষোভ দেখান। এবার এইসব কাজের ইতি টেনে দেওয়া হলো নবান্নের পক্ষ থেকে। শিয়ালদহ-সহ চারটি ডিভিশনে বারবার ঝান্ডা হাতে রেললাইন অবরোধের ঘটনা দেখা গিয়েছে। রেলের পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, শুধুমাত্র পূর্ব রেলের চারটি ডিভিশনে গত অর্থবর্ষে প্রায় ২৯টি রেল অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব রেলে ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে সবচেয়ে বেশি ট্রেন অবরোধ হয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশনে। ২২টি অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।

তাছাড়া নবান্ন সূত্রে খবর, আমজনতার দুর্ভোগ বাড়ালে এবার থেকে তা কড়াভাবে মোকাবিলা করা হবে। সিএএ কার্যকর না করার প্রতিবাদে দেশের বুকে প্রথম পশ্চিমবঙ্গেই জঙ্গি আন্দোলন হয়েছিল। ট্রেন জ্বালিয়ে দেওয়া থেকে রেললাইনের ক্ষতি, তাণ্ডব চালানো হয়েছিল। গত সরকারের প্রশ্রয়েই আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছিল। নতুন সরকার এসেই এই নীতির বদল করেছে। পুলিশ-প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে আইন মেনে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তাই রেলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনকে। এবার রেল-রাজ্য যৌথভাবে ট্রেন অবরোধের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে।