• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 19 June, 2026

বাজারে টন টন রূপোলি শস্য আসছে, জামাইষষ্ঠীর প্রাক্কালে দামে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের

ইলিশ ধরে ফিরতে শুরু করেছে ট্রলারগুলি। সমস্ত ট্রলার ফিরে আসতে কিছুটা সময় লাগলেও বাজারে এসে গিয়েছে রূপোলি শস্য

ইলিশের সঙ্গে বাঙালির যোগ চিরন্তন। আর সামনেই জামাইষষ্ঠী। তাই জামাইয়ের পাতে টাটকা ইলিশ তুলে দিতে তৎপর শ্বশুরমশাইরা। কিন্তু সেই টাটকা ইলিশ পেতে আর মাত্র একদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। শনিবার ষষ্ঠী সেরে জামাইয়ের জন্য রবিবার টাটকা ইলিশ কিনতে বাজারে হাজির হবেন শ্বশুরমশাইরা। তার উপর বর্ষা এসে গিয়েছে। সুতরাং গৃহস্থরা সকালেই হাজির হবেন বাজারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভুরিভোজ করতে শনিবার টাটকা ইলিশ পাতে পড়বেই। শনিবার জামাইষষ্ঠী। তাই এখন থেকেই তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন শ্বশুরমশাইরা।

আর জামাইষষ্ঠীর আগে কপালে ভাঁজ পড়েছে অনেক শ্বশুরমশাইয়ের। ইতিমধ্যেই বাজারে এসেছে টাটকা ইলিশ। কিন্তু দাম ১২০০-১৫০০ টাকা কেজি। এই দামটাই কপালে ভাঁজ ফেলেছে শ্বশুরমশাইদের। জামাইয়ের পাতে ইলিশ তুলে দিতে হলে ভালই রেস্ত খসবে আম গৃহস্থের। তাই শুক্রবারই শ্বশুরমশাইরা নেমে পড়েছেন ষষ্ঠীর বাজার করতে। মাছের জোগান বাজারে ইতিমধ্যেই চলে এসেছে। সুন্দরবন, মুড়িগঙ্গা, হাতানিয়া-দোয়ানিয়া এবং সপ্তমুখীর মতো কিছু জায়গার নদীগুলিতে এবার ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে।

ইলিশ ধরে ফিরতে শুরু করেছে ট্রলারগুলি। সমস্ত ট্রলার ফিরে আসতে কিছুটা সময় লাগলেও বাজারে এসে গিয়েছে রূপোলি শস্য। এখন যে পরিমাণ মাছ এসেছে সেটা দিয়ে বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং ভরসা রাখতে হচ্ছে হিমঘরের ইলিশের উপরও। কাকদ্বীপের এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, ‘জামাইষষ্ঠীতে বাজারে ইলিশ ছাড়া অসম্পূর্ণ। তাই চাহিদা ভালই রয়েছে। কিছু ইলিশ এসেছে যার ওজন ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম। এগুলি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে।’ বাজারের চাহিদা মেটাতে ট্রলারগুলি রাতের মধ্যে ফিরলেই বাজারে দ্রুত ইলিশ পৌঁছে যাবে। আর জামাইয়ের পাতে টাটকা ইলিশ পড়বে। ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও জালে ধরা পড়েছে মৎস্যজীবীদের।

এছাড়া জামাইষষ্ঠীর মধ্যে জড়িয়ে আছে আবেগ, প্রাচীন রীতি। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লাষষ্ঠী তিথিতে ষষ্ঠীদেবীর পুজো করে জামাইষষ্ঠী ব্রত পালন করেন শাশুড়িরা। বিবাহিত মেয়ে এবং জামাইকে আপ্যায়ন করা হয়। বাংলার বারো মাসে তেরো পার্বণের সঙ্গেই খাওয়াদাওয়ার নিবিড় যোগ রয়েছে। ডায়মন্ডহারবার নগেন্দ্রবাজারে কাকদ্বীপ, নামখানা, রায়দিঘি থেকে ৫০ টনের উপর ইলিশ এসে পৌঁছেছে। আরও ট্রলার ফিরলে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়বে ইলিশের জোগান। এমনকী হিমঘরের ইলিশ বাজারে আছে। তাই জামাইয়ের পাতে ইলিশ তুলে দিতে সমস্যায় পড়বেন না শ্বশুর-শাশুড়িরা। আর মৎস্যজীবীরা জানান, ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৯০০ গ্রামের ইলিশ ১২০০-১৩০০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে।