নিটের প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন টেলিগ্রামের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে দিল্লি হাইকোর্টে জানালো কেন্দ্রীয় সরকার। একাধিক যুক্তি দিয়েছে তারা। টেলিগ্রামকে বলা হয়েছে নতুন ডার্ক ওয়েব। অভিযোগ, এই অ্যাপকে ব্যবহার করে দিকে দিকে নানা অপরাধ করা হচ্ছে।
জানানো হয়েছে, এই অ্যাপের নির্দিষ্ট বিশেষত্বের কারণে অপরাধীদের শনাক্ত করা ভয়ানক কঠিন হচ্ছে। তাই নিট পরীক্ষার আগে এই অ্যাপে নিষেধাজ্ঞা জারি জরুরি বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
গত ৩ মে নিট পরীক্ষা হয়েছিল। ১২ তারিখে কেন্দ্র জানায় নিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। তাই পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছিল সরকার। নতুন পরীক্ষা হবে ২১ জুন। এই পরীক্ষাতে যাতে প্রশ্ন ফাসস না হয় তাই টেলিগ্রামের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রের এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয় টেলিগ্রাম কতৃপক্ষ। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন তারা। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সন্ত্রাসবাদ, সাইবার অপরাধ, মাদক পাচার, শিশু নিগ্রহ এমনকি আর্থিক জালিয়াতিতেও টেলিগ্রামকে ব্যাপকভাবে লাগানো হচ্ছে। এই অ্যাপে এমন কিছু বিশেষত্ব রয়েছে, যার মাধ্যমমে বিপুল পরিমাণ তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। কেন্দ্রের আইনজীবী বলেন, একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট দিয়ে ৪০টি বট তৈরি করা যায়। তা পরবর্তীতে আরও বাড়ানো যায়। আর এগুলোর মাধ্যমে প্রচুর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া যায়। কেন্দ্রের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই টেলিগ্রামকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসন কে সহজেই এড়িয়ে যায় অপরাধীরা। বেশ কিছু সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এই অ্যাপ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ। আর সেই কারণেই এই অ্যাপের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এই অ্যাপ থেকে বিভিন্ন বিষয়ের গ্রুপ তৈরি করা যায়। এমনকি কেনাকাটার জন্যেও লিঙ্ক তৈরি করা হয়। যা বিপদজনক।




