আবারও ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ইংল্যান্ডের তরুণ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের ৪-২ জয়ে গোল করার পাশাপাশি তিনি ইউরোপীয় ফুটবলে এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
বুধবার ডালাসে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বেলিংহ্যাম। তার গোলই দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইংল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত থমাস টাচেলের দল ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
মাত্র ২২ বছর ৩৫৩ দিন বয়সে এই ম্যাচে নেমে বেলিংহ্যাম চারটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ইউরোপীয় ফুটবলারের তকমা পেলেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জার্মানির ইয়ামাল মুইসালার দখলে।
কোন চারটি বড় আসরে অংশ নিয়েছেন বেলিংহ্যাম? সেগুলি হলো উয়েফা ইউরো ২০২০ ও ২০২৪ এবং ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ ও ২০২৬। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চারটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের তালিকায় এখন সবার ওপরে বেলিংহ্যাম। তার পরে রয়েছেন মুসিয়ালা, পেদ্রি, জেরেমি দোকু, মাইকেল ওয়েন এবং লুকাস পোদোলস্কি।
শুধু এই নজিরই নয়, বেলিংহ্যাম আরও একটি মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ঘানার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামলে তিনি মাত্র ২২ বছর ৩৫৯ দিন বয়সে জাতীয় দলের হয়ে ৫০ ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব অর্জন করবেন, যা ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে উঠবে।
নয়া নজির গড়ে বেলিংহ্যাম বলেছেন, “দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নেমে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া আমার কর্তব্য। দশ নম্বর জার্সিটা পরে যখন দেশের জন্য খেলতে নামি, তখন নিজের কাছে যা আছে, সব দিয়ে আসার চেষ্টাই করি সব সময়।”
মাত্র ১৭ বছর ১৩৬ দিন বয়সে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে প্রথম মাঠে নামেন বেলিংহ্যাম। তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় তৃতীয় ব্যক্তি, থিও ওয়ালকট ও ওয়েন রুনির পরেই। এই বয়সেই ইংল্যন্ডের ফুটবল ইতিহাসে একের পর এক নজির সৃষ্টি করে চলেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের শুরুতেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই মিডফিল্ডারকে ঘিরে ইংল্যান্ড সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গিয়েছে। বয়স মাত্র ২২ হলেও জাতীয় দলের অন্যতম নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বেলিংহ্যাম, আর ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর পারফরম্যান্স সেই মর্যাদাকেই আরও দৃঢ় করেছে।




