কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকায় তৃণমূল ভবন খালি করার কাজ শুরু হল। মঙ্গলবার থেকে ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা থেকে আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী সরানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর। দলীয় সূত্রে দাবি, তৃণমূল নিজের উদ্যোগেই কার্যালয়ের জিনিসপত্র অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, মঙ্গলবার রাত থেকেই ভবনের সামনে একাধিক পণ্যবাহী গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। ভোরের দিকে সেগুলি মালপত্র নিয়ে বেরিয়ে যায়।
এই পাঁচতলা ভবনের মালিক মনোতোষ সাহা। তিনি মন্টু সাহা নামে বেশি পরিচিত। তাঁর সংস্থা মডার্ন ডেকরেটার্স দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচির মঞ্চ তৈরি দায়িত্ব পালন করে আসছিল। ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চও তারাই তৈরি করত। তবে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মন্টু সাহা ও তৃণমূলের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর তিনি দলকে ভবন খালি করেত বলেন। অভিযোগ করেন, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তৃণমূল ভবনটি ছাড়ছে না।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি প্রগতি ময়দান থানায় যাওয়ার কথাও জানান। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থানায় গিয়ে ভাড়া দেওয়ার রসিদ-সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়, ভবনটি ব্যবহারের জন্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈধ চুক্তি ছিল। কিন্তু নির্বাচনে পরাজয়ের পর মালিকপক্ষ সেই চুক্তি নিয়ে আপত্তি তুলতে শুরু করে।
জানা গিয়েছে, ভবনের নিচের তলাগুলিতে জেলা থেকে আসা কর্মীদের বসার ব্যবস্থা এবং একটি মিডিয়া সেন্টার ছিল। মঙ্গলবার রাত থেকে সেখানকার চেয়ার-টেবিল, ফ্লেক্স, ব্যানার ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে মালিকপক্ষ বা তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও বিবৃতি দিয়ে কিছু জানায়নি। তবে দুই পক্ষের বিরোধ যে নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর উত্তর পঞ্চান্নগ্রামে বাইপাস সংলগ্ন পুরনো তৃণমূল ভবনের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেই সময় থেকেই মেট্রোপলিটনের এই ভবনটি অস্থায়ী রাজ্য কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এখন সেই কার্যালয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণ পুরনো কার্যালয়ের সংস্কারকাজ এখনও শেষ হয়নি। ফলে আপাতত অন্য কোনও জায়গায় দলীয় সদর দপ্তর স্থানান্তরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
দিল্লিতেও একই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভোমিকের সরকারি বাংলোর একটি অংশকে দলীয় অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হত। কিন্তু মমতা ও অভিষেক শিবির থেকে পার্থ ভৌমিক সরে যান। তিনি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের শিবিরে যেতেই দিল্লির তৃণমূলের অফিসটিও সরানো হয়। দলের নতুন অফিস হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের বাংলোর একটি অংশে।




