আগামী ২১ জুন আন্তজার্তিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার বাবুঘাটে আয়োজিত হবে যোগ কার্নিভাল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও যোগ দিবসে যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন। সেই উপলক্ষে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, প্রায় ৫০০টি লঞ্চ ও ভুটভুটিকে আগামী বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন বাবুঘাটে পৌঁছতে হবে। আর সেই জন্য সুন্দরবন থেকে কলকাতায় সমস্ত টুরিস্ট লঞ্চ ও ভুটভুটি পাড়ি দিতে চলেছে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই লঞ্চ বা ভুটভুটিতে যোগাভ্যাস করবেন। সেই জন্য ওই জলযানগুলিতে সুন্দরবন থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকেই জলযানগুলি বাবুঘাটের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা। ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ওই জলযানগুলি বাবুঘাট এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিতে থাকবে। এবার এর প্রভাব সুন্দরবন পর্যটন শিল্পে পড়তে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ সুন্দরবনে পর্যটন বন্ধ রাখা হবে।
সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের পক্ষ থেকে এনিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ১৬ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সুন্দরবনের পর্যটন বন্ধ থাকবে। ইকো ট্যুরিজম স্পটেও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা সুন্দরবনের ট্যুর অপারেটর, বোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, লঞ্চ ও হোটেলমালিক সংগঠনকে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, সুন্দরবনে ইলিশ উৎসবের জন্য অনেক পর্যটক অগ্রিম বুকিং করেছেন। এভাবে পর্যটন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি হঠাৎ করে জলযান সরিয়ে নেওয়ার জন্য তারা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগে থেকে যদি তাঁদের কাছে নির্দেশ থাকত তাহলে তাঁরা এভাবে অগ্রিম বুকিং নিতেন না। এর ফলে তাঁদের অনেকটাই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
এবিষয়ে বোট ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে গোসাবা ব্লক প্রশাসন, সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন একাধিক দফায় বৈঠক করেছে। আগামী ২৪ জুন থেকে ফের সুন্দরবনে পর্যটন আগের মতো শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের কর্তারা।




