এবার ওষুধের দোকানে গিয়ে যে কোনও সিরাপ কিনতে গেলেই লাগবে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন। মঙ্গলবার এই নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে সবটা সাফ জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই নির্দেশ অনুযায়ী, কাশির সিরাপও একই নিয়মের আওতায় পড়বে। সুতরাং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন থাকলে তবেই মিলবে সিরাপ। তা না হলে রোগী বা রোগীর পরিবারকে ওষুধের দোকান থেকে কাশির সিরাপ দেওয়া হবে না। ওষুধের সুরক্ষা জোরদার করতে এবং তরল ওষুধের অবাধ বিক্রি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই কেন্দ্রীয় সরকার ‘ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫’ সংশোধন করে কাশির সিরাপ-সহ সিরাপ-জাতীয় ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করেছে।
এদিকে কাশির সিরাপ অনেক সময় নেশার দ্রব্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়। নিষিদ্ধ এবং অবৈধ কাশির সিরাপ বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার চক্র কাজ করে থাকে। এবার এই পদক্ষেপ করার জেরে তা বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে বাজারে সহজে এবং শর্তহীনভাবে বিক্রি হওয়া ওষুধের তালিকা থেকে কাশির সিরাপকে একদমই বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এখন থেকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া যে কোনও ধরনের সিরাপ কেনা বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে। অনেক সময়ই রোগী বা রোগীর পরিবার চিকিৎসক না দেখিয়ে নিজেদের বুদ্ধিতে কাশির সিরাপ-সহ নানা সিরাপ কিনে থাকেন। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক অভ্যাস। এই নতুন পদক্ষেপে তা বন্ধ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ‘ড্রাগস (পঞ্চম সংশোধন) বিধি, ২০২৬’ জারি করেছে। যার মাধ্যমে ‘ড্রাগস বিধি, ১৯৪৫’-এর ‘শিডিউল কে’ থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। গত ৯ জুন সরকারি গেজেটে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এই সংশোধনী কার্যকর করা হয়েছে। ‘ড্রাগস (পঞ্চম সংশোধন) নিয়ম, ২০২৬’-এর অধীনে আগে থেকেই এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, সরকারি গেজেটে প্রকাশের দিন থেকেই এটি সারা দেশে কার্যকর করা হবে। তাই মঙ্গলবার থেকে নতুন নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে।
তাছাড়া ‘ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫’-এর ‘শিডিউল কে’-তে এমন কিছু ওষুধের তালিকা রয়েছে, যা ওষুধ উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহের নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের অধীনে থাকা দরকার। যা ছিল না। সুনির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টাসিড এবং গর্ভনিরোধকের মতো বিশেষ পণ্যগুলির ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম ছিল না। সহজেই বিক্রি হতো। বরং এইসব ওষুধের উপর ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই সংশোধনী একটি লাগাতার পরামর্শ প্রক্রিয়ার ফসল। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। যখন পরিবর্তনের প্রস্তাব সম্বলিত খসড়া বিধি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে কাশির সিরাপ খেয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। তার পর থেকেই সাধারণভাবে ব্যবহৃত তরল ওষুধের সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। কড়া নজরদারির দাবি ওঠে। মধ্যপ্রদেশে অন্তত ২২ জন শিশুমৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে ভারতে দুবছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য সব ধরনের কাশি এবং সর্দি-কাশির সিরাপ নিষিদ্ধ করা হয়। এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ করে সব ধরনের কাশির সিরাপের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার।




