মাস দুয়েক ধরে টানাপড়েনের পরে অবশেষে শান্তিচুক্তিতে একমত হয়েছে আমেরিকা ও ইরান। দুই দেশই যখন এই চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক সম্মতি প্রকাশ করেছে ঠিক সেই সময়ে ট্রাম্পের গলায় অন্য সুর। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের কাছে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে কী কী বিষয় থাকবে তা আমেরিকা শীঘ্রই প্রকাশ করবে। তবে এর পাশাপাশি ট্রাম্প ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল তৈরির কথাও খারিজ করে দিয়েছেন।
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না বলে সম্মত হয়েছে। ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত তাহলে সেটা ওরা ব্যবহার করে ফেলত।’ শোনা যাচ্ছিল, ইরানকে পুনর্গঠনের জন্য আমেরিকা ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেবে। কিন্তু এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, ডেমোক্র্যাটরা এই গুজব ছড়িয়েছে। আবার একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সইসাবুদ মিটে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করতে পারে। তহবিল সরাসরি ইরানকে দেওয়া হবে না। বরং ইরান বিনিয়োগে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য এই তহবিল তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তেহরানের তরফে এই তহবিলের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এদিকে ইরানের দাবি, অর্থনৈতিক ত্রাণ ও পুনর্গঠন সহায়তা ছাড়া কোনওভাবেই শান্তি টিকে থাকতে পারে না। তবে আমেরিকা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানকে কোনও আর্থিক সাহায্য দেবে না। এ বিষয়ে ট্রাম্প মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানান, আমেরিকা ইরানকে ৩০ হাজার কোটি ডলার দিচ্ছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। উল্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এসব খবর ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
সোমবার দুই যুযুধান দেশই মউ স্বাক্ষর করেছে। তাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘেই গালিবাফের সই রয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন ভান্স। তবে এই মউকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন না বলে জানা গিয়েছে।




