• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 15 June, 2026

বেলেঘাটার বিধায়কের উপর এবার ডিম থেরাপি, তৃণমূল সুপ্রিমোর বাড়ির সামনেই চাপে কুণাল

তারই প্রতিবাদ করতে এবং বিক্ষোভের অংশ হিসাবে পচা ডিম ছুড়েছেন কুণাল ঘোষকে। উনি ডিম খাওয়ারই যোগ্য

রাজ্য-রাজনীতিতে ডিম থেরাপি এখন একটা চর্চিত বিষয়। কারণ পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর থেকে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দেখা মাত্রই ডিম ছুঁড়ে মারা হচ্ছে। সেখান থেকে বাদ যাচ্ছেন না হেভিওয়েট নেতা থেকে শুরু করে কাউন্সিলররা। এবার তাতে সংযোজন হলো কুণাল ঘোষের নাম। সোমবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে কুণাল ঘোষকে ডিম ছুঁড়ে মারা হলো। আর তাতেই ক্ষেপে গেলেন বেলেঘাটার বিধায়ক। এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ চন্দন নামে এক যুবক তাঁর মাথা লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়েন বলে অভিযোগ।

এদিকে এই ডিম হামলা হতেই নিজেকে বাঁচাতে মাথা নিচু করে নেন কুণাল ঘোষ। এই ছবি এখন সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে শুরু হয় এই ডিম থেরাপি। সোনারপুরে নিহত কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ডিম হামলার শিকার হন তিনি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছিল সাংসদকে। আর এবার রাস্তায় কুণাল দেখেন তাঁর জন্য ডিম হাতে অপেক্ষা করছেন এক যুবক। কুণাল তাঁকে দেখে এগিয়ে গিয়ে কিছু কথা বলেন। তারপরই কুণালের মাথায় ডিম ছুড়ে মারা হয়।

অন্যদিকে ওই যুবক ডিম ছোঁড়ার কারণ হিসাবে জানান, তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। তারই প্রতিবাদ করতে এবং বিক্ষোভের অংশ হিসাবে পচা ডিম ছুড়েছেন কুণাল ঘোষকে। উনি ডিম খাওয়ারই যোগ্য। কুণাল ঘোষ অনেক অত্যাচার করেছেন। অনেক বাজে কাজ করেছেন। ডিম ছুড়ে মারতেই মাথা নীচু করেন তিনি। কিন্তু তারপরও কুণালের মাথায় ডিম ফেটে যায়। কালীঘাটের বাসিন্দা ওই যুবক ঢিম মেরেই এলাকা ছাড়েন। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে কুণাল বলেন, ‘আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। হাতের কাছে পেয়ে ডিম মেরে পালিয়েছে। এক মাঘে শীত যাবে না।’

তাছাড়া রাজ্যের নানা প্রান্তে চলছে ডিম থেরাপি। তৃণমূলের বিধায়ক, চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলর যাঁকে হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে তাঁকেই ডিম মারছে জনতা। এবার কুণালকে দেখে ছুটে গিয়ে কালীঘাটে ডিম মারা হয়। ডিম থেরাপির পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বেলেঘাটার বিধায়কেরতোপ, ‘মমতাদির বাড়ি থেকে বেরনোর পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। দুটি ছেলে আমার হাতের নাগালেই ছিল। আমি নিরস্ত্র ছিলাম। একজন ডিম ছুঁড়ে পালিয়ে গেল। কেউ কোনও প্রতিবাদ করল না, বাধা দিল না, ওদের ধরার চেষ্টাও করল না। কে অত্যাচার করেছে? আমি করেছি? মমতাদি করেছে? করলে থানা-পুলিশ করেছে। তার দায় আমার? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। তাঁর বাড়ির ১০ মিটারের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তাহলে নিরাপত্তা কোথায়?’