দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল ও ডিজেলের অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির জেরে নতুন বিধিনিষেধ জারি করল কেন্দ্র সরকার। শিল্প, বাণিজ্যিক, কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের আর সাধারণ পেট্রল পাম্প থেকে বেশি পরিমাণে পেট্রল বা ডিজেল কেনার অনুমতি দেওয়া হবে না। তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে নির্দিষ্ট পাইকারি বা বাল্ক বিক্রয় কেন্দ্র থেকে।
পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ১১ জুন ‘মোটর স্পিরিট অ্যান্ড হাই স্পিড ডিজেল (টেম্পোরারি রেগুলেশন অফ সাপ্লাই থ্রু রিটেল আউটলেট) অর্ডার, ২০২৬’ জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। আপাতত সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। প্রয়োজন হলে পরে এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
সরকারের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে চলা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থার উপর পড়েছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে খুচরা ও পাইকারি বাজারে দামের বড় ফারাকও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
বর্তমানে দিল্লিতে খুচরো পাম্পে ডিজেলের দাম লিটারপিছু ৯৫.২০ টাকা। সেখানে বাল্ক ক্রেতা বা যারা একবারে অনেক বেশি পরিমাণে জ্বালানি কিনে থাকে তাদের ক্ষেত্রে সেই দাম ১৩৪.৫০ টাকা। দামের এই বিশাল পার্থক্যের কারণে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক সংস্থা কম দামে জ্বালানি পাওয়ার জন্য সাধারণ পাম্পের দিকে ঝুঁকছিল।
ফলে কিছু এলাকায় পেট্রল ও ডিজেলের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়।টেলিকম টাওয়ার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য কাঁচামালের প্রয়োজনে ডিজেল ব্যবহারকারী শিল্পকারখানার মতো বৃহৎ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বাজারদর নেওয়া হয়, কিন্তু খুচরা পাম্পের দর উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম।
সরকারি সূত্রের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের পর সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি খুচরো মূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। কিন্তু শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বাজারদরেই জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় দুই ক্ষেত্রের দামের ব্যবধান অনেকটা বেড়ে যায়।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, পেট্রল পাম্পে ডিজেল শুধুমাত্র যানবাহনের ট্যাঙ্কে ভরা যাবে। পাশাপাশি কোনও গ্রাহক বা যানবাহন দিনে ২০০ লিটারের বেশি ডিজেল কিনতে পারবেন না। এই ক্রয় করা জ্বালানি আবার বিক্রি করা যাবে না।
সরকারের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় রাখা, মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধ করা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিকে সচল রাখাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকেও এই নির্দেশ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।




