কাকলি ঘোষ দস্তিদারের লেখা একটি চিঠি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ফের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করকে একটি চিঠি লিখেছেন লোকসভার সাংসদ। ওই চিঠিতে জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
চিঠিতে সাংসদ কাকলি উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু বিষয়। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যা উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগগুলি সত্যি হলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে বারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়গুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ ইমরানকে ঘিরে প্রশ্ন
চিঠিতে বিশেষভাবে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরানের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে। সাংসদ লিখেছেন, সংবাদমাধ্যমে এমন দাবি প্রকাশিত হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত হওয়া ইমরানের বাংলাদেশের কিছু উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি। তবুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।
সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
চিঠিতে পশ্চিমিবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় সেনা এবং বিএসএফের চাওয়া জমি বরাদ্দ না হওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে বলে তিনি জানিয়েছেন।
চিটফান্ডের টাকা নিয়ে তদন্তের দাবি
কাকলি আরও দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যমে এমন কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের চিটফান্ড সংক্রান্ত অর্থের একটি অংশ প্রতিবেশী দেশগুলিতে গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই চিঠির কথা অস্বীকার করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে শুক্রবার এএনআই এবং পিটিআই সংবাদ সংস্থাকে উদ্ধৃত করে তিনি পোস্টে লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কোনও বিষয় নিয়ে আমি কোনও চিঠি লিখিনি। যদিও এ ধরনের একটি চিঠি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তবে ওই খবর বা চিঠির সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। আমি এর সঙ্গে জড়িত থাকার দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি।‘
I have not written any letter regarding any issue to Honble Chief Minister, West Bengal , which is being circulated on media . I deny any association with this news @ANI @PTI_News
— Dr. KakoliGDastidar (@kakoligdastidar) June 12, 2026

এই বিতর্কের মধ্যেই বিজেপি নেতা অমিত মালব্যর একটি পুরনো সমাজ মাধ্যমের পোস্ট ফের আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে করা ওই পোস্টে তিনি আহমেদ হাসান ইমরানের রাজনৈতিক অতীত এবং তাঁরি বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। অমিত মালব্য দাবি করেছিলেন, ইমরানের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন সিমি-র পশ্চিমবঙ্গ শাখার যোগাযোগ ছিল। তবে উল্লেখ্য বিষয় হল, এই অভিযোগগুলির অনেকগুলিই এখনও প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া বা বিচার বিভাগীয় তথ্য সামনে আসেনি।
Who is Ahmed Hassan Imran?
He is not just a former Rajya Sabha Member of Parliament from West Bengal, representing the Trinamool Congress but also a founding member and the head of the West Bengal chapter of SIMI (Students Islamic Movement of India), an organization later banned… https://t.co/e6CpQgkzK9
— Amit Malviya (@amitmalviya) April 19, 2025




