• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 10 June, 2026

বিশ্বকাপ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে জলমগ্ন আজটেকা স্টেডিয়াম, উদ্বেগে ফিফা ও আয়োজকরা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনের আর মাত্র দু’দিন বাকি। অথচ তার আগেই চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াল প্রবল বর্ষণ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনের আর মাত্র দু’দিন বাকি। অথচ তার আগেই চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াল প্রবল বর্ষণ। টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়াম। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, স্টেডিয়ামের প্রবেশপথ, পার্কিং এলাকা এবং আশপাশের বেশ কিছু অংশে জল জমে রয়েছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় ফেলেছে আয়োজকদের।

গত কয়েক দিন ধরেই মেক্সিকো সিটিতে লাগাতার ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় আবহাওয়া দফতর শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে। শুধু স্টেডিয়াম চত্বরই নয়, শহরের বহু রাস্তাঘাটও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির জেরে গণপরিবহণ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে জল ঢুকে পড়ায় সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে।

এই অবস্থার মধ্যেই ১২ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার কথা দক্ষিণ আফ্রিকার। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক ভেন্যু আজটেকা স্টেডিয়ামে। এই স্টেডিয়ামের নাম বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষভাবে লেখা রয়েছে। ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সাক্ষী ছিল এই মাঠ। এবার তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করে নতুন নজির গড়তে চলেছে আজটেকা।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে গত কয়েক মাস ধরে স্টেডিয়ামে ব্যাপক সংস্কার কাজ করা হয়েছে। দর্শকাসনের আধুনিকীকরণ, নতুন ভিডিও স্ক্রিন, উন্নত ড্রেসিংরুম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ সেই প্রস্তুতির ওপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস। তাঁদের মতে, উদ্বোধনী দিনের আবহাওয়াও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। প্রবল বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কিংবা ম্যাচ শুরুর সময়সূচিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীতেও বজ্রপাতের আশঙ্কায় একাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে।

তবে আয়োজক কমিটি আশাবাদী। ইতিমধ্যেই স্টেডিয়াম ও তার আশপাশের এলাকায় জল নিষ্কাশনের কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে। আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবুও বিশ্ব ফুটবলের কোটি কোটি সমর্থকের নজর এখন মেক্সিকো সিটির দিকে। কারণ, বিশ্বকাপের মহাউদ্বোধনের আগে প্রকৃতি যে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, তা সামাল দেওয়া আয়োজকদের কাছে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।