ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে নতুন নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১০ জুন ২০২৬ সালে তিনি দেশের দীর্ঘতম সময় ধরে একটানা দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়লেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নিয়েছিলেন। তার পর থেকে টানা ৪,৩৯৯ দিনেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করলেন তিনি। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ডও ভেঙে দিলেন।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটা একটা নিঃসন্দেহে মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যের দিনে সব ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে চা-চক্রে মিলিত হবেন। প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন বিশ্বের একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরপর জয় পেয়ে তিনি তৃতীয়বারের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। গত ১২ বছরেরও বেশি সময়ে তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসীন। আন্তর্জাতিক স্তরের বার্তাগুলিতে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় মোদীর বিশেষ কৃতিত্বের উল্লেখ করা হয়েছে।
Prime Minister of the Italian Republic Giorgia Meloni extends her heartiest congratulations to Prime Minister Narendra Modi on being India’s longest continuously serving PM.
She tweets, “Congratulations to PM Narendra Modi who today becomes the longest-serving elected Prime… pic.twitter.com/xrtJDrKXJH
— ANI (@ANI) June 10, 2026
এদিকে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিসানায়াকা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়ে চিঠিতে লিখেছেন, ‘এই মাইলফলক শুধু আপনার কার্যকালের বছরগুলিরই প্রমাণ নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণ আপনার নেতৃত্বের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস বারবার দেখিয়েছে, এটা তারও প্রমাণ।’ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মোদীর নেতৃত্বকে ‘দূরদর্শী ও প্রভাবশালী’ বলে জানিয়েছেন, ভারত-ইতালি কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে মোদীর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী।
অন্যদিকে ৬২ বছর ধরে দেশের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড ছিল জওহরলাল নেহরুর। এবার সেই রেকর্ড আর রইল না। তাই নয়াদিল্লিতে সাজ সাজ রব। জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৬৪ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী প্রায় ১৬ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকলেও সেটা ছিল দুটি পৃথক মেয়াদে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেশেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘বন্ধু ও দূরদর্শী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘ভারতের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে মোদীর অবদান অনস্বীকার্য।’ তাছাড়া পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘নেতৃত্বের এক রোল মডেল ও উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বিশেষভাবে ২০ কোটিরও বেশি ভারতীয়কে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার কৃতিত্বের উল্লেখ করেন। এই বিশেষ দিনের উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘গত ১২ বছরের যাত্রা ছিল দেশের মানুষের বিশ্বাস, উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। যুবসমাজ, নারী এবং কৃষকদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নতুন পরিচিতি পেয়েছে।’




