সই জাল কাণ্ডে ভবানীভবনে হাজিরার সময়সীমা শেষ। এবার আবারও চিঠি দিয়ে আরও খানিকটা সময় চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তিনি নয়াদিল্লিতে আছেন। তাই সেখান থেকে আসতে পারছেন না। মঙ্গলবার হাজির হওয়ার ডেডলাইন ছিল। কিন্তু এই নিয়ে তৃতীয়বার সিআইডি তলব এড়ালেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। বরং মঙগ্লবার সিআইডিকে চিঠি পাঠিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি কলকাতার বাইরে। তাই এখন হাজিরা দিতে পারছেন না তিনি। ওই চিঠিতে অভিষেক অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লাগোয়া তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছে যায় সিআইডির বিশেষ দল। একই সময়ে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসেও পৌঁছন তদন্তকারীরা। দু’জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ নথির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সই জাল কাণ্ডের মামলায় আগেই একটি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তার জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে পৌঁছে যায় সিআইডির আর একটি প্রতিনিধিদল এবং সেখানে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে খবর। এই আবহে নয়াদিল্লি থেকে সিআইডিকে চিঠি পাঠালেন অভিষেক বলে জানা গিয়েছে। তবে সিআইডির স্পষ্ট অবস্থান—সই জাল কাণ্ডের তদন্তে প্রয়োজনীয় সমস্ত সূত্র খতিয়ে দেখা হবে। আর তাই কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
তাছাড়া বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সময় তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষরে গরমিল ধরা পড়ে। তার পর দলের দুই বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার সচিব একটি এফআইআর দায়ের করেন। ওই এফআইআরের সূত্র ধরেই তদন্তে নামে সিআইডি। তবে এবার কলকাতা হাইকোর্টে বিষয়টি বিচারাধীন থাকার কথা চিঠিতে উল্লেখ করে সময় চেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১ জুন প্রথমবার তাঁকে তলব করেছিল সিআইডি। কিন্তু ওইদিন সিআইডির তলবে ভবানীভবনে যাননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠি দিয়ে তখন জানান, তিনি অসুস্থ। তাই হাজিরা দিতে পারছেন না। গত ৩০ মে সোনারপুরে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিষেক। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। নিজেকে অসুস্থ বলে জানান সাংসদ।




