রাজ্য প্রশাসনে ফের বড়সড় রদবদল করল নবান্ন। রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে একযোগে ৩৫ জন ডব্লিউবিএ অ্যান্ড এএস (WBA&AS) ক্যাডারের উচ্চপদস্থ আধিকারিককে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন দফতরের কাজের গতি বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বদলিকৃত আধিকারিকদের অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে বদলি প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন করতে পূর্বে জারি হওয়া একাধিক নির্দেশিকা ও বিজ্ঞপ্তি প্রয়োজন অনুসারে বাতিল বা সংশোধন করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, একাধিক আধিকারিকের পরিষেবা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর ফলে আর্থিক নজরদারি ও প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত ‘ম্যাচিং অর্ডার’ জারি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন দায়িত্ব গ্রহণে কোনও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি না হয়।
এবারের বদলি প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রশাসনকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সমস্ত আধিকারিককে এসআরএমএস (SRMS) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে চার্জ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রাজ্য অর্থ দফতরের ২০১৬ সালের নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর এই বড় মাপের রদবদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করে তুলতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্য সরকার পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছিল। নির্বাচনী পর্বে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একাধিক পদে পরিবর্তন আনা হয়। পরে নতুন সরকার গঠনের পর আবারও একযোগে ১৭৯ জন আইপিএস (IPS) এবং ডব্লুবিপিএস (WBPS) আধিকারিকের বদলি ও পদোন্নতির ঘোষণা করা হয়।
সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার রাজ্যের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তরে এই বড়সড় রদবদলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসনিক মহল।




