• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 8 June, 2026

রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, দলের সব পদ ছেড়ে খুললেন মুখও

তার মধ্যে সুখেন্দুবাবুর এই দলত্যাগ ও ক্ষোভ প্রকাশ তৃণমূলকে আরও বিপাকে ফেলল বলে মনে করা হচ্ছে

তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই দলের বেশ কিছু বিধায়ক এবং সাংসদ বিদ্রোহ করতে শুরু করেছেন। নানা পদ থেকে ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন। সেটা পুরসভা থেকে শুরু করে বিধানসভা, রাজ্যসভা সব ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করছেন তখনই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। সোমবার সুখেন্দুশেখর রায় পদত্যাগ করতেই জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে আলোড়ন পড়ে যায়। তাহলে কি এবার ভাঙন লোকসভাতেও? উঠছে প্রশ্ন।

এদিকে সোমবার নয়াদিল্লি থেকে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন সুখেন্দুশেখর রায়। একই সঙ্গে আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ-খুনের ঘটনা এবং দুর্নীতি নিয়ে দলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগলেন। তাঁর দাবি, আরজি কর-কাণ্ডের পরেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এত দিনে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করলেন। যদিও এই সুখেন্দুশেখর রায় তখন বিদ্রোহ করে বিপাকে পড়ে দলের এক নেতাকে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে দলে থেকে গিয়েছিলেন। সে খবরও তখন সামনে এসেছিল।

অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। তার মধ্যে সুখেন্দুবাবুর এই দলত্যাগ ও ক্ষোভ প্রকাশ তৃণমূলকে আরও বিপাকে ফেলল বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন সুখেন্দুশেখর রায় প্রাতিষ্ঠানিক দু্র্নীতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। কদিন আগে লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। পদত্যাগের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুখেন্দুশেখর রায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। একই সঙ্গে দল থেকেও পদত্যাগ করেছি।’

তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফার চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সর্বত্র বেলাগাম দুর্নীতির কথা তুলে ধরেছেন তিনি পদত্যাগপত্রে। নয়াদিল্লি থেকে তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে রাজনীতি থেকেও অবসর নিতে পারেন। আর সুখেন্দুশেখর রায়ের তোপ, ‘সাধারণ মানুষ এই দলের ওপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছেন। আমজনতার সঙ্গে দলের নিচুতলার যোগাযোগ এখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। দলের দুর্নীতি কালক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিয়েছে। যখনই কোনও প্রশাসক বা শাসক আমজনতার মুখের ভাষা বুঝতে অক্ষম হয়, তখনই তার পতন অনিবার্য হয়ে পড়ে। তৃণমূলের সমস্ত জাতীয় নেতার সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখা উচিত। সব কিছুর একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আরজি কর কাণ্ড নিয়ে আমি প্রথম থেকেই সরব হয়েছিলাম। দলের ঊর্ধ্বে গিয়ে আলাদাভাবে ধর্নাতেও বসেছিলাম। কারণ সাধারণ মানুষ এই ঘটনার প্রকৃত বিচার চেয়েছিলেন এবং প্রতিবাদ আছড়ে পড়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর লুটপাটের রাজনীতি শুরু হয়। তখন সাধারণ মানুষ বা আমরাও বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।’