• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 7 June, 2026

তোলাবাজির দায়ে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৈলাশ মিশ্র

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধানসভা প্রার্থী কৈলাস মিশ্রের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধানসভা প্রার্থী কৈলাস মিশ্রের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে। রবিবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষ দল বিহারের মধুবনী জেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পুলিশের নজরে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

কৈলাস মিশ্র ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়ার বালি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তিনি পরিচিত। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২১ সালের নির্বাচনের সময় এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল।

সূত্রের দাবি, বালি, হাওড়া এবং লিলুয়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে হামলা, ভয় দেখানো, চাঁদাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একাধিক এফআইআর নথিভুক্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলাগুলির তদন্ত চলছিল। অবশেষে নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি দল বিহারের মধুবনী জেলায় পৌঁছে তাঁকে আটক করে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

কৈলাস মিশ্রের বাড়ি বিহারের মধুবনী জেলার বেনিপট্টি ব্লকের আরের পুরওয়ারি টোলা এলাকায়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট আদালতে তাঁকে পেশ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে গত কয়েক দিনে তৃণমূলের একাধিক নেতা ও পদাধিকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও বেড়েছে। শুক্রবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা সামসুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। সমবায় ব্যাঙ্কের পদাধিকারী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও অশান্তির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন স্বরূপ বিশ্বাস। তিনি প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই। গত বছর ডিসেম্বর মাসে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে তদন্তে।

একের পর এক গ্রেপ্তারির ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, আইন আইনের পথেই চলছে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিজেদের কাজ করছে। আগামী দিনে এই ঘটনাগুলির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।