• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 7 June, 2026

তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে পুলিশের হানা, পকসো মামলায় গ্রেপ্তার

যে নাবালিকাকে নির্যাতন করেছিলেন তিনি তাকেই গতকাল রাস্তায় দেখতে পেয়ে আবার হেনস্থা করেন কাউন্সিলর বলে অভিযোগ

প্রতীকী ছবি

রবিবার সকালে কলেজ স্ট্রিট এলাকায় তৃণমূল নেতা মহম্মদ জসিমউদ্দিনের বাড়িতে হানা দিল পুলিশ। এই তৃণমূল নেতা ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও। ওই তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পকসো মামলার অভিযোগ রয়েছে। আর তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে হানা দেয় জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ বলে খবর। বাড়ির ভিতরে তৃণমূল কাউন্সিলরকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গিয়েছে।

কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সেসব নিয়ে এলাকাবাসী অতিষ্ট। তবে পুলিশ তাঁকে কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তা নিয়ে কেউ মুখ খোলেননি। বাড়িতে পুলিশ আসতেই এলাকার মানুষজন ভিড় করতে শুরু করেছেন। অনেকেই কাউন্সিলরের কাজে ক্ষুব্ধ। এক নাবালিকাকে হেনস্থা করার অভিযোগে ওই এলাকা থেকেই কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ একজনকে শনিবার গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাকে জেরা করেই হাতে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তার পরই কাউন্সিলরের বাড়িতে হানা দিয়েছে পুলিশ। পকসো আইনে রুজু হওয়া সেই মামলার প্রেক্ষিতেই জসিমউদ্দিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

২০২৩ সালে নাবালিকাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে কাউন্সিলর জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে। তাই পকসো মামলা দায়ের হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এলাকার একাধিক জায়গায় তাণ্ডব চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গতকালও কলাবাগান এলাকায় দলবল নিয়ে তাণ্ডব চালান তিনি বলে অভিযোগ উঠেছে। যে নাবালিকাকে নির্যাতন করেছিলেন তিনি তাকেই গতকাল রাস্তায় দেখতে পেয়ে আবার হেনস্থা করেন কাউন্সিলর বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ওই নাবালিকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর নির্যাতিতার পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দাযের করেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিকে বাড়িতেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে. কিন্তু কথায় অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রমাণ জোগাড় করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার রাতে পাটুলিতে গ্রেপ্তার হন কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। এই নিয়ে কলকাতা পুরসভার পর পর সাতজন তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হলেন। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ রয়েছে। তোলাবাজি থেকে শুরু করে হুমকি, মারধর, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি তৈরি করা-সহ নারী নির্যাতন কোনও কিছুই বাদ নেই।