• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

বোমা-বন্দুক দেখিয়ে ইটভাটা থেকে লুঠের অভিযোগ, অনুব্রতর বিরুদ্ধে এফআইআর

কংকালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান মহম্মদ ওহিউদ্দিন ওরফে মামনের নেতৃত্বে শতাধিক ট্রাক্টর নিয়ে তৃণমূলের কর্মীরা ওই ইটভাটায় চড়াও হয়

বোমা-বন্দুক দেখিয়ে ইটভাটা থেকে লুঠের অভিযোগ, অনুব্রতর বিরুদ্ধে এফআইআর

Anubrata Mondal Photo-SNS

রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। আর তার জেরে জেলে যেতে শুরু করেছেন তাঁরা। সুজিত বসু থেকে শুরু করে শওকত মোল্লা কেউ বাদ যাচ্ছেন না। শওকত মোল্লার আবার ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজত হয়েছে। এবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হল শান্তিনিকেতন থানায়। বোমা-বন্দুক দেখিয়ে ইটভাটা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ইট লুঠ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে এই অভিযোগ সামনে আসায় এখন রাজ্য-রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই অনুব্রত মণ্ডল আগেই জেল খেটেছেন। তিহাড় জেলে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘদিন। এবার আবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল। তাঁর নির্দেশেই এই কাজ হয়েছিল বলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর বোমা-বন্দুক দেখিয়ে ইটভাটা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ইট লুঠ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তৎকালীন বীরভূমের তৃণমূল সভাপতির নির্দেশেই এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীর দাবি, ১০০টি ট্রাক্টর-সহ দলবল নিয়ে কংকালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে লুটপাট চলেছিল বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে ইট ভাটার মালিক শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডলকে তখন নিজের ব্যবসা ছেড়ে প্রাণ ভয়ে পালাতে হয়েছিল। পুলিশের কাছে গিয়েও সহযোগিতা মেলেনি। শুধু তাই নয়, তৎকালীন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকেও লিখিত অভিযোগ করেও কোনও সমাধান মেলেনি। রাজ্যে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়েই অনুব্রত-সহ ১৩ জনের নামে এবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন ওই ইটভাটা মালিক। শান্তিনিকেতন থানার আদিত্যপুরের পাথরঘাটা গ্রামে লায়ন ব্রিক ফিল্ড নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। সেখানেই এমন ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ।

তাছাড়া কংকালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান মহম্মদ ওহিউদ্দিন ওরফে মামনের নেতৃত্বে শতাধিক ট্রাক্টর নিয়ে তৃণমূলের কর্মীরা ওই ইটভাটায় চড়াও হয়। প্রত্যেকের হাতে ছিল বোমা ও বন্দুক বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই বিষয়ে ইট ভাটার মালিক শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডল বলেন, ‘বোলপুরে দলীয় কার্যালয় তৈরির সময় ইট চেয়েছিল বলে দিয়েছিলাম৷ তারপর প্রায় সময় টাকা চাইতো। তোলা দিতে পারিনি বলে ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হই৷ অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশেই উপপ্রধান মামন ও তাঁর অনুগামীরা হাতে বন্দুক নিয়ে বোমা মেরে প্রায় ১০০টি ট্রাক্টরে লোকজন নিয়ে এসে ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুঠ করেছিল। আমি প্রাণ ভয়ে পালিয়েছিলাম। আমার ব্যবসা শেষ করে দিয়েছে। আমি চাই আমার টাকা উদ্ধার হোক। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক পুলিশ।’